০১
ময়নার বাপ রহিম মিয়া বাজারের সবার সামনে গালে থাপ্পড় খেলো। গরিব মানুষের ইজ্জতের দাম নাই। এই রকম থাপ্পড় সে কত খেয়েছে। কিন্তু এইবার ময়না তার সাথে ছিল। সে তার নিরীহ চোখ দুইটা তুলে বাপকে দেখল। কোনদিন যা হয় নাই আজকে তাই হলো। রহিমের চোখে পানি চলে আসল।
তাকে থাপ্পড় মেরেছে বাজার কমিটির চেয়ারম্যান। রহিম মিয়া মাথা নিচু করে চোখের পানি লুকাতে চেষ্টা করল।
-তোরে যদি আবার বাজারের কোনায় ভিক্ষে করতে দেখি, ত খবর আছে।
রহিম মাথা নিচু করেই ঘাড় নাড়ল। সে আর ভিক্ষে করবে না।
-মাথা নাড়সা ক্যান? মুখে বলোন যায় না?
কমিটির চেয়ারম্যান আরেকটা থাপ্পড় মারল। থাপ্পরের পরপরই ময়না তার বাপের হাত ধরে ফেলল। তার হাতে একটা শিশুর হাতের চাপ পড়ার পরই চোখের পানি যেন আরো বেড়ে যেতে লাগল।
-আর ভিক্ষ্যা করমু না।
চেয়ারম্যান আবার থাপ্পড় মারলেন একটা। এরপর বললেন, মনে থাকে যেন। চোরের গুষ্ঠি সব কয়টা।
রহিম মিয়া থাপ্পড় খাওয়া শেষে ময়নাকে নিয়া বাজারের একটা চায়ের দোকানে ঢুকে পড়ল।
০২
রহিম মিয়ার কপাল খারাপ। ময়নার সামনে সে আবার থাপ্পড় খেলো। সে ভিক্ষে করা থামায় নাই। কমিটির চেয়ারম্যান বাজারে তাকে ধরে ফেলেছেন।
-তোর শিক্ষা হয় না?
রহিম মিয়া আবার কয়েকটা থাপ্পর খেলো। ময়না থাপ্পরের এই সময়টাতে তার বাপের হাত ধরে রাখল। এতে রহিম মিয়ার চোখে পানি চলে আসল। গভীর মমতা নিয়ে ময়না তার বাপের হাত ধরে আছে।
থাপ্পড় দেয়া শেষে, ময়না তার শান্ত চোখ দুইটি তুলে চেয়ারম্যানকে বলল, বাপেরে আর মাইরেন না।
০৩
গরীবের ইজ্জতের দাম নাই। রহিম মিয়ারও ইজ্জত নাই। কতবার কত মানুষের মার খেলো। কখনো চোখে পানি আসে নাই। ছোটবেলায় সবজি চুরি করত । ধরাও পড়ত মাঝে মাঝে । মালিক দিত মার। সেই মার খেয়েও কোনদিন রহিম কাদে নি। দোস্তরা বলত, রহিমের দিল পাত্থরের লাহান। চোক্ষে পানি আহে না।
সেই পাত্থর দিল রহিম মিয়া ইদানীং দুই-তিনটা থাপ্পড় খেয়েই কেদে দিচ্ছে। রহিম মিয়া বুঝতে পারে, ময়না তার পাশে থাকলে কোথা থেকে জানি তার লজ্জা চলে আসে। ব্যথার জন্যে সে কাদে না। লজ্জা পেয়ে কাদে।
০৪
রহিম মিয়া ঠিক করে আর ভিক্ষে না। সে রিকশা চালাবে । ময়নার মুখের দিকে তাকিয়ে সে ভাবে, ইজ্জতের সাথে বাচতে হবে। এইভাবে চলা যায় না ।
০৫
রহিম মিয়া কতদূর যেতে পারে রিকশা চালিয়ে তা এখনই বলা যায় না। সে একদিন রিকশা গ্যারাজের মালিক হতে পারে। এরপর হয়ত সি.এন.জি কিনে সেই ব্যবসা শুরু করবে। এরপর একদিন বাস সার্ভিস চালানো শুরু করবে। রহিমের উত্থান হতে পারে।
আবার এমন হতে পারে, ময়না মারা যাবে আগামী বছর। বাসের নিচে পড়ে। ছোট মেয়েরা ত রাস্তার পাশে খেলে। বাসের নিচে কি সে পড়তে পারে না? রহিম মিয়া আবার ভিক্ষের জীবনে ফিরে যাবে। কমিটির চেয়ারম্যান মাঝে মাঝে তাকে থাপ্পড় দিবে। তবু সে ভিক্ষে থামাবে না।
০৬
আমি গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি। ময়নার কি হয় সেটা জানার জন্য। রহিম মিয়া ভিক্ষে করা থামায় নাকি সেটা জানার জন্য।
আমি আখসানুল ইসলাম। ব্লগ লিখি মজা করার জন্য। আমার ব্লগ পড়ে আপনি আনন্দ পেলেই আমি সন্তুষ্ট।
Showing posts with label গল্প. Show all posts
Showing posts with label গল্প. Show all posts
নারী নাকি বাঘ?
একটি বিশেষ কারনে আমার গল্প শুরু হল রোমান সময়ে। সুসভ্য আর পরাক্রমশালী রোমের পাশের ছোট একটা আধা-বর্বর রাজ্য নিয়ে আমার গল্প।
আধা বর্বর রাজ্যের রাজা যে আধা সভ্য সেটা বোধহয় না বললেও চলে। প্রতিবেশী রোমান সাম্রাজ্য থেকে তিনি কিছু জ্ঞান নিয়েছেন, হয়ত কিছুটা সভ্য হয়েছেন। কিন্তু মানুষের স্বভাব যায় না কিছুতেই। আর রাজার স্বভাব শুধরাবে এমন মানুষ কই?
আমাদের গল্পের তিনি নায়ক নাকি ভিলেন সেটা সময় ঠিক করবে।
রোমান সম্রাজ্যের অনুকরনে একটা সংবিধান তৈরী করা হয়েছে, রাজা যেটাকে মাঝে মধ্যে ডিঙ্গিয়ে যেতে ভালোবাসেন। কিন্তু আইন কানুন রাজ্যে যে বলবত আছে সেটা অস্বীকার করা যায় না। নিয়মের ভিতরে থেকে বিচার হয়, শাস্তি হয়। রাজ্যে মোটামুটি শান্তিও আছে।
যখন কোন নিয়ম থাকবে তখন তার একটা সীমাবদ্ধতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। মাঝে মাঝেই এমন কিছু পরিস্থিতির উদ্ভব হত যা প্রচলিত আইনকানুন দ্বারা বিহিত করা যায় না। তখন রাজার মুখে যে হাসি ফুটে উঠত সে হাসি রাজকুমারী অন্য কখনো দেখত না। অসমতলকে সমতল আর বাকাকে সোজা করতে রাজা খুব পছন্দ করতেন।
এইখানে ছোট একটা অপ্রাসংগিক কথা বলতে হবে। রাজকুমারীর কথা এলো। কোন কোন পাঠক হয়ত একতু নড়ে-চড়ে বসছেন। সেই কি শিরোনামের “নারী?” হে হে হে... মেয়ে কি সুন্দরী নাকি?
সুন্দরী ত বটেই।
যা বলছিলাম, কেউ যদি এমন কিছু করে বসত যে কোন ভাবেই বিচার করা যাচ্ছে না সে দোষী না নির্দোষ, তার কর্মকান্ডে এমন গোলকধাধা তৈরী হয়েছে যে বিচারক কিছুই বলতে পারছেন না। কেসটা চলে আসত রাজার কাছে। রাজা তার মস্তিস্ক প্রসূত একটি সহজ, বিনোদনধর্মী এবং অতিমাত্রায় নিরপেক্ষ পদ্ধতিতে বিচার করতেন।
রাজার এই ধরনের প্যাচাল কেইস সলভ করার জন্য বিরাট একটা স্টেডিয়াম বানিয়েছেন। বিচারের দিন পুরা স্টেডিয়াম খুলে দেয়া হয়। দর্শকরা এসে নিজের জায়গা নিলে অভিযুক্তকে নিয়ে আসা হয় মাঠের মাঝখানে। স্টেডিয়ামের মাঝখানে দুইটা দরজা। একটা দরজার পিছনে ক্ষুধার্ত বাঘ, আরেকটা দরজার পিছনে রাজার মনোনীত এক নারী। কোন দরজার পিছে বাঘ থাকবে আর কোনটার পিছে নারী সেটা রাজার একজন সেনাপতি ঠিক করেন। পুরা রাজ্যে শুধু সেই জানে মৃত্য আর জীবন কোন দরজার পিছে কি। অভিযুক্ত লোক এগিয়ে যায়। দরজা খুলে। যদি নারী বের হয়ে আসে, তাহলে মাঠের মধ্যেই তাদের বিয়ে পড়ানো হয়। রাজা নেমে এসে আশীর্বাদ করেন। উপহার দেন। সম্মানের সাথে সে বিদায় নেয়। আর যদি বাঘ বের হয়ে আসে তবে কি হয় সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
রাজাকে কেউ কেউ বলে এটা অন্যায় সেটা বন্ধ হোক। কিন্তু রাজাও যুক্তি দেন। অভিযুক্তের ফয়সালা কি সে নিজেই করছে না? আর বাঘ বের হয়ে আসবে নাকি নারী সেটা নিয়ে সারা রাজ্যের কৌতূহল। জনগন যখন মাঠে আসে তখন তারা জানে না বিয়ে দেখতে যাচ্ছে নাকি মৃত্যু। অনিশ্চয়তা একটা বিরাট বিনোদন। আর বিনোদনের প্রয়জনীয়তা কে অস্বীকার করবে?
গল্পের এই পর্যায়ে যুবকের কথা বলি। সাধারন ঘরে জন্ম তার। সে দেখতেও তেমন আহামরি কিছু নয়। কিন্তু রাজকুমারী ভালোবাসে তাকে। কিভাবে যুবকের সাথে রাজকুমারীর দেখা আর এত সম্ভ্রান্ত যুবক থাকতে কেন সে সাধারন একটা যুবককে ভালোবাসে সেই কাহিনী অন্যত্র বলব। ব্লগ বড় হয়ে যাচ্ছে।
রাজার কানে গেল কথাটা। যুবকের বিচার হবে। বিচারের সময় দেখা গেল এমন কোন আইন নাই যে রাজকুমারী এক সাধারন যুবককে ভালোবাস্তে পারবে না। কিন্তু রাজার ইচ্ছে তার শাস্তি হোক। এতবড় সাহস ছোটলোক হয়ে রাজার মেয়ের দিকে হাত বাড়ায়??? রাজার তার বিচার করার সিদ্ধান্ত নিলেন স্টেডিয়ামে।
বনে সৈন্য পাঠানো হল। বাঘ খুজে নিয়ে আস।
রাজকন্যা এই পাগলের মত উপায় খুজে বেড়াচ্ছে। কোন দরজার পিছে কে থাকবে সেটা জানা দরকার। আর রাজা যুবকটির জন্য ঠিক করেছেন রাজকুমারীর বান্ধবীকে। যদি যুবকটি সঠিক দরজা খুলতে পারে তবে সে পাবে তাকে বউ হিসাবে।
রাজকুমারীর অর্থ আছে, তার সৌন্দর্যও অত্যধিক। তার ইচ্ছের জোর প্রবল। সে তার সমস্ত ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে খুজে বের করল কোন দরজার পিছে বাঘটা রাখা হবে।
রাজকুমারী সারা রাত ধরে ভাবছে। যদি দরজা দিয়ে বাঘ বের হয়ে আসে তবে তার প্রেমিক চোখের সামনে মারা যাবে। আর যদি বের হয়ে আসে তার সহচরী তবে তাদের দুইজনের বিয়ে হয়ে যাবে। যাই ঘটুক তার প্রেমিককে যে সে হারাচ্ছে সেটা নিশ্চিত। যখন সে চিন্তা করে যে তার প্রেমিককে বাঘে খেয়ে ফেলছে তখন তার চোখের জলের সীমা থাকে না। আবার যখন মনে হয় তার সহচরীকে যুবকটি বেচে থাকার আনন্দে জড়িয়ে ধরছে, তাদের বিয়ে হচ্ছে। তখন তার রাগের সীমা থাকে না।
বিচারের দিন যুবককে আনা হল। সে মাঠে প্রবেশ করে কুর্নিশ করল রাজাকে। রাজকুমারীর দিকে তাকাতেই রাজকুমারী চোখের ইশারায় বা দিকের দরজা দেখিয়ে দিল।
যুবকটি আর কথা না বলে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে গিয়ে খুলে ফেলল বাদিকের দরজা। এখন প্রশ্ন হল দরজা দিয়ে কি বের হয়েছিল? বাঘ নাকি নারী?
গল্প এখানে শেষ।
(একটা কথা বলা হয় নাই। এটা অনুবাদ। মূল গল্পের লেখক Frank Stockton।)
আধা বর্বর রাজ্যের রাজা যে আধা সভ্য সেটা বোধহয় না বললেও চলে। প্রতিবেশী রোমান সাম্রাজ্য থেকে তিনি কিছু জ্ঞান নিয়েছেন, হয়ত কিছুটা সভ্য হয়েছেন। কিন্তু মানুষের স্বভাব যায় না কিছুতেই। আর রাজার স্বভাব শুধরাবে এমন মানুষ কই?
আমাদের গল্পের তিনি নায়ক নাকি ভিলেন সেটা সময় ঠিক করবে।
রোমান সম্রাজ্যের অনুকরনে একটা সংবিধান তৈরী করা হয়েছে, রাজা যেটাকে মাঝে মধ্যে ডিঙ্গিয়ে যেতে ভালোবাসেন। কিন্তু আইন কানুন রাজ্যে যে বলবত আছে সেটা অস্বীকার করা যায় না। নিয়মের ভিতরে থেকে বিচার হয়, শাস্তি হয়। রাজ্যে মোটামুটি শান্তিও আছে।
যখন কোন নিয়ম থাকবে তখন তার একটা সীমাবদ্ধতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। মাঝে মাঝেই এমন কিছু পরিস্থিতির উদ্ভব হত যা প্রচলিত আইনকানুন দ্বারা বিহিত করা যায় না। তখন রাজার মুখে যে হাসি ফুটে উঠত সে হাসি রাজকুমারী অন্য কখনো দেখত না। অসমতলকে সমতল আর বাকাকে সোজা করতে রাজা খুব পছন্দ করতেন।
এইখানে ছোট একটা অপ্রাসংগিক কথা বলতে হবে। রাজকুমারীর কথা এলো। কোন কোন পাঠক হয়ত একতু নড়ে-চড়ে বসছেন। সেই কি শিরোনামের “নারী?” হে হে হে... মেয়ে কি সুন্দরী নাকি?
সুন্দরী ত বটেই।
যা বলছিলাম, কেউ যদি এমন কিছু করে বসত যে কোন ভাবেই বিচার করা যাচ্ছে না সে দোষী না নির্দোষ, তার কর্মকান্ডে এমন গোলকধাধা তৈরী হয়েছে যে বিচারক কিছুই বলতে পারছেন না। কেসটা চলে আসত রাজার কাছে। রাজা তার মস্তিস্ক প্রসূত একটি সহজ, বিনোদনধর্মী এবং অতিমাত্রায় নিরপেক্ষ পদ্ধতিতে বিচার করতেন।
রাজার এই ধরনের প্যাচাল কেইস সলভ করার জন্য বিরাট একটা স্টেডিয়াম বানিয়েছেন। বিচারের দিন পুরা স্টেডিয়াম খুলে দেয়া হয়। দর্শকরা এসে নিজের জায়গা নিলে অভিযুক্তকে নিয়ে আসা হয় মাঠের মাঝখানে। স্টেডিয়ামের মাঝখানে দুইটা দরজা। একটা দরজার পিছনে ক্ষুধার্ত বাঘ, আরেকটা দরজার পিছনে রাজার মনোনীত এক নারী। কোন দরজার পিছে বাঘ থাকবে আর কোনটার পিছে নারী সেটা রাজার একজন সেনাপতি ঠিক করেন। পুরা রাজ্যে শুধু সেই জানে মৃত্য আর জীবন কোন দরজার পিছে কি। অভিযুক্ত লোক এগিয়ে যায়। দরজা খুলে। যদি নারী বের হয়ে আসে, তাহলে মাঠের মধ্যেই তাদের বিয়ে পড়ানো হয়। রাজা নেমে এসে আশীর্বাদ করেন। উপহার দেন। সম্মানের সাথে সে বিদায় নেয়। আর যদি বাঘ বের হয়ে আসে তবে কি হয় সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
রাজাকে কেউ কেউ বলে এটা অন্যায় সেটা বন্ধ হোক। কিন্তু রাজাও যুক্তি দেন। অভিযুক্তের ফয়সালা কি সে নিজেই করছে না? আর বাঘ বের হয়ে আসবে নাকি নারী সেটা নিয়ে সারা রাজ্যের কৌতূহল। জনগন যখন মাঠে আসে তখন তারা জানে না বিয়ে দেখতে যাচ্ছে নাকি মৃত্যু। অনিশ্চয়তা একটা বিরাট বিনোদন। আর বিনোদনের প্রয়জনীয়তা কে অস্বীকার করবে?
গল্পের এই পর্যায়ে যুবকের কথা বলি। সাধারন ঘরে জন্ম তার। সে দেখতেও তেমন আহামরি কিছু নয়। কিন্তু রাজকুমারী ভালোবাসে তাকে। কিভাবে যুবকের সাথে রাজকুমারীর দেখা আর এত সম্ভ্রান্ত যুবক থাকতে কেন সে সাধারন একটা যুবককে ভালোবাসে সেই কাহিনী অন্যত্র বলব। ব্লগ বড় হয়ে যাচ্ছে।
রাজার কানে গেল কথাটা। যুবকের বিচার হবে। বিচারের সময় দেখা গেল এমন কোন আইন নাই যে রাজকুমারী এক সাধারন যুবককে ভালোবাস্তে পারবে না। কিন্তু রাজার ইচ্ছে তার শাস্তি হোক। এতবড় সাহস ছোটলোক হয়ে রাজার মেয়ের দিকে হাত বাড়ায়??? রাজার তার বিচার করার সিদ্ধান্ত নিলেন স্টেডিয়ামে।
বনে সৈন্য পাঠানো হল। বাঘ খুজে নিয়ে আস।
রাজকন্যা এই পাগলের মত উপায় খুজে বেড়াচ্ছে। কোন দরজার পিছে কে থাকবে সেটা জানা দরকার। আর রাজা যুবকটির জন্য ঠিক করেছেন রাজকুমারীর বান্ধবীকে। যদি যুবকটি সঠিক দরজা খুলতে পারে তবে সে পাবে তাকে বউ হিসাবে।
রাজকুমারীর অর্থ আছে, তার সৌন্দর্যও অত্যধিক। তার ইচ্ছের জোর প্রবল। সে তার সমস্ত ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে খুজে বের করল কোন দরজার পিছে বাঘটা রাখা হবে।
রাজকুমারী সারা রাত ধরে ভাবছে। যদি দরজা দিয়ে বাঘ বের হয়ে আসে তবে তার প্রেমিক চোখের সামনে মারা যাবে। আর যদি বের হয়ে আসে তার সহচরী তবে তাদের দুইজনের বিয়ে হয়ে যাবে। যাই ঘটুক তার প্রেমিককে যে সে হারাচ্ছে সেটা নিশ্চিত। যখন সে চিন্তা করে যে তার প্রেমিককে বাঘে খেয়ে ফেলছে তখন তার চোখের জলের সীমা থাকে না। আবার যখন মনে হয় তার সহচরীকে যুবকটি বেচে থাকার আনন্দে জড়িয়ে ধরছে, তাদের বিয়ে হচ্ছে। তখন তার রাগের সীমা থাকে না।
বিচারের দিন যুবককে আনা হল। সে মাঠে প্রবেশ করে কুর্নিশ করল রাজাকে। রাজকুমারীর দিকে তাকাতেই রাজকুমারী চোখের ইশারায় বা দিকের দরজা দেখিয়ে দিল।
যুবকটি আর কথা না বলে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে গিয়ে খুলে ফেলল বাদিকের দরজা। এখন প্রশ্ন হল দরজা দিয়ে কি বের হয়েছিল? বাঘ নাকি নারী?
গল্প এখানে শেষ।
(একটা কথা বলা হয় নাই। এটা অনুবাদ। মূল গল্পের লেখক Frank Stockton।)
গল্প- পাতা ঝরার দিন
রাসেল একটু ঝুকে চুমু দিল সীমাকে। সীমাও সাড়া দিল। কিন্তু দ্বিতীয় চুমু দেয়ার আগে রাসেল থেমে গেল। সীমা আগ্রহ নিয়েই মুখ বাড়িয়েছিল। তাই একটু হতাশ হল। তারা দুইজন যাচ্ছে রিকশায়। রাসেল কেয়ার করে না কখন কেউ দেখল কিনা বা কেউ কিছু ভাবল কিনা। আর রাসেল যে শুধু সীমাকেই চুমু দিয়েছে রাস্তায়, তা ত নয়। এর আগে বীথি, নিশা, রত্না ইত্যাদি ইত্যাদি মেয়েকে সে চুমু দিয়েছে হয় রিকশায় বসে না হয় আধা-অন্ধকারে রাস্তার পাশে বসে। রাসেল জানে সীমার ঠোট দুটোতে তার আগেও আরো কারো স্পর্শ ছিল। এই নিয়ে রাসেল কোন চিন্তা করে না। যে ছেলেটা এর আগে সীমার ঠোটে চুমু খেয়েছে আর সিএনজিতে বসে স্তনে হাত দিয়েছে, সেই ছেলেটাকে রাসেল চিনে। ওর নাম সুদীপ্ত। রাসেলের রুমমেট। রাসেল যদিও জানে সুদীপ্ত সীমাকে চুমু দিয়েছে তার এই নিয়ে কোন ধরনের শুচিবায়ুতা নেই। আধুনিক সময়ে এইসব নিয়ে মাথা ঘামাতে সে রাজি নয়। বরং নগদ যা পাওয়া যাচ্ছে সেটা উপভোগ করাতেই তার আনন্দ।
সীমা ঠোট দুটো হাতের তালুতে মুছে জিজ্ঞেস করল "কি হয়েছে?" তার চোখে সামান্য জিজ্ঞসা। বিকেলে চা খেয়েছো কিনা সেটা জিজ্ঞেস করার সময়ও এর চেয়ে বেশী উৎসুক্য থাকে তার চোখে। রাসেল রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে আনমনে। কিছু হয়নি। তবে থামলে কেন? জানি না। সীমাকে আসল কারন বলার কোন ইচ্ছা নাই রাসেলের। থামার কারন মনটা খচখচ করছে গতকাল থেকে। এক হাজার টাকা চুরি করা ঠিক হয়নি। অবশ্য এটাকে চুরি বলা যায় না। সরিয়ে ফেলা ঠিক হয়নি বলা উচিত।
গতকাল হলে বসে গেম খেলছে রাসেন। কিছুক্ষন পর টিঊশনীতে যেতে হবে। সেখানে যাবার আগে গেম খেলে মুড ভাল করার চেষ্টা করছে। অতি গর্দভ এক ছাত্রকে পড়াতে যাবে। তাই যাওয়ার আগে মুড অন করা খুবই জরুরী। তার রুমমেট সুদীপ্ত এল। " দোস্ত! আমার মাথা-ব্যথা করছে। " "শুয়ে থাক। কিন্তু রাতে ত কালেকশনে যাওয়ার কথা। স্বপনকে বল। হারামজাদার ত তো্র সাথেই যাওয়ার কথা। স্বপন টিঊশনীতে আটকা পড়েছে। কথা বলতে বলতে রাসেলের মনযোগ সরে গিয়েছিল গেম থেকে। গেম গুলো এমন হয় যে সব ভুল ক্ষমা করা হবে কিন্তু মনযোগের অভাব ক্ষমা হবে না। রাসেল গালি দিল একটা। কপিটারের গালি-গালাজে কিছু আসে যায় না। রাসেল গেম pause করল। " তুই যা প্রদীপের সাথে। " তোর কাজ আমি করব কেন? তোকে স্টারে খাওয়াব। হুমম রাসেল একটু দুর্বল হয়। তা ছাড়া টাকা তোলা হচ্ছে একটা মহৎ কাজের জন্য। অন্য ভার্সিটির একটা ছেলে অসুস্থ হয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য টাকা তোলা হবে। রাসেল বলল ঠিক আছে। আমি রাতে এসে বের হব। রাসেল ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা আসলে একটা খুব ভালো health insurance করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা কালে কিডনী-লিভার যাই নষ্ট হোক বা ক্যান্সার হোক ছেলেরা টাকা পয়সা তুলে তার চিকিৎসা করবে। কখনও শোনা যায় না ভার্সিটির কোন ছাত্র বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। যেভাবেই হোক টাকা যোগাড় হবে। এইদানিং শুরু হয়েছে নতুন স্টাইল। কনসার্ট আয়োজন করা। কনসার্টে আসো। নাচো- গাও। কেউ নিয়ে আসে বান্ধবী। নাচো একসাথে। কেউ খাবে মদ-গাজা। আর তাদের টিকিটের টাকা দিয়ে মাদ্রাজ-সিঙ্গাপুরে হবে মধ্যবিত্তের কোন ছেলের কিডনী ঠিক হচ্ছে বা চোখ। সবাই খুশী। এটা সবার জন্যই win-win situation.পাচশত কিলোমিটার দূরের ভার্সিটির কোন এক অখ্যাত-মেধাবী ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে আর তার জন্য রাসেলকে হলের বিভিন্ন রুমে গিয়ে গিয়ে টাকা তুলতে হবে।
.........তুমি কি জানো অমুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্র মারা যাচ্ছে? তোমার সামান্য সাহায্য একটা ছেলের জীবন বাচাতে পারে। আমারা একটা পোস্টার দিয়েছিলাম ডাইনিং হলে। তুমি কি সেটা দেখেছো? সেখানে লেখা ছিল যে আজকে আমরা টাকা তুলতে আসব। তোমার যদি মনে হয় সাহায্য করা দরকার তাহলে তুমি সাধ্যমত টাকা দিতে পারো। যে যাই দিচ্ছে আমরা তাই নিচ্ছি।......
প্রদীপ কথাগুলো বলে। রাসেলকে শুধু টাকাটা হাতে নিতে হয়। এরপর ঢুকিয়ে রাখে একটা বক্সে। রুমে রুমে ঘুরে বেশ ভালো টাকা উঠছে। বারোটার দিকে শেষ হয় টাকা তোলা। প্রদীপ প্রচুর কথা বলে বলে ক্লান্ত। রাসেলকে বলে পনেরটা টাকা দে বাক্স থেকে। ক্যান্টিনে গিয়ে কোক আর সিগারেট খাই। রাসেলের চেহারায় নিশ্চয় অবাক একটা ভাব ফুটে উঠেছিল।নইলে প্রদীপ বলত না। এইরকম করে তাকাস ক্যান? এইটা হইল সিস্টেম লস। এইটা থাকবই। রাসেল বাক্স থেকে ত্রিশ টাকা বের করে। তুই গিয়ে বস। আমি টয়লেট ঘুরে আসি একটু।
এই টয়লেটে গিয়েই রাসেল হাজারখানেক টাকা সরিয়ে ফেলে বাক্স থেকে।
রাত দুইটা পর্যন্ত সীমার সাথে কথা হল। পরদিন ডেটের ব্যাপারটা নিশ্চিত করেই রাসেল ঘুমাতে যায়। তারা যাবে সিনেমা দেখতে একটা সিনে কমপ্লেক্সে।
ঘটনাটা এতটুকুই। হাজারখানেক টাকা সরিয়ে ফেলার জন্য রাসেলের মনে একটু খচ খচ করতে থাকে। যদিও ত্রিশ টাকা সরানো আর হাজার টাকা সরানো একই জিনিস। শুধু পরিমানে হাজারটাকা ত্রিশ টাকা থেকে বেশী। তবু একটা অসুস্থ ছেলের চিকিৎসার টাকা সরিয়ে নিয়ে সে স্বস্তিবোধ করেনা। মধ্যবিত্ত মুল্যবোধের সবটুকু এখনো যায় নি দেখে সে নিজেই একটু অবাক। তার ধারনা ছিল এই ধরনের মান্ধাতার আমলের মূল্যবোধ সে পার হয়ে এসেছে। যেদিন রাখিকে সে হঠাৎ করে জড়িয়ে ধরেছিল আর জোর করে দিয়েছিল একটা চুমু সেদিন তার মধ্যবিত্ত মূল্যবোধ বেশ যন্ত্রনা দিয়েছিল। এরপর বহুদিন পার হয়েছে। কিন্তু এতদিনেও যে পুরোপুরি যায়নি সাবেকি চিন্তা সেটা আবিষ্কার করে রাসেল দুঃখিত।
রিকশা থেমে গেল ফুলার রোডে। রাস্তার পাশে বসল দুইজন। আজকে সীমাকে দ্বিতীয় চুমু দিতে গিয়ে তার ভিতর এতগুলো চিন্তা একসাথে এল যে আগ্রহই চলে গেল। সীমা বেশ আধুনিক। সাড়া দেয় সবসমই ভালো। তবুও মনের ভিতর থেকে আজ জোর পাচ্ছে না।
সীমা রাসেলের হাত ধরল। তুমি কি বলবে তোমার কি হয়েছে? রাসেলের মনে হচ্ছে সীমার এখনো কোন আগ্রহ নাই জানার। শুধু অভিনয়। রাসেল সীমার কাছ ঘেষে বসল। সিনেমা শুরু হতে দেরী আছে আরো। আরেকবার চুমু দিবে??
সিধান্তটা নেয়ার আগেই ফোন বেজে উঠেছে। মা করেছে ফোন। রাসেল একটু বিরক্ত। ঝামেলা ভালো লাগে না।
-কি হইছে?
-রাশেদের শরীর গতরাত থেকে খারাপ।
রাসেলের বুক ধক করে উঠল। ছোটভাইটাকে সে ভালোবাসে খুব বেশী। বয়সের ব্যাবধান বেশী থাকায় ছোট ভাইয়ের সাথে কোনদিন ঝগড়া হয়নি। বরং রাসেল তার ভাইকে আদর করে অপরিমিত।
-কি হইছে রাশেদের?
-রাত বারোটার দিকে হঠাৎ করেই গায়ে র্যাশ বের হইছে? বারোটার কথা শুনে আবার হার্টবিট মিস হল একটা। ঠিক বারোটার দিকেই ত রাসেল হাজারখানেক টাকা সরিয়েছে।
-র্যাশ?
-হু।
-তোমরা আমাকে বল নাই কেন? ডাক্তার দেখাইছো?
-রাইতে ছদুর অইখান থেকে ওষুধ এনে খাওইয়াছি। র্যাশ কমছে। ডাক্তার দেখাইছি। মনে হয় এলার্জি। সিরিয়াস কিছু না।
-ডাক্তার কি বলে?
-টেস্ট দিছে। রিপোর্ট দিবে বিকালে। এরপর সন্ধ্যায় দেখাব ডাক্তারকে।
- আমারে কিন্তু সাথে সাথে জানাবে কি বলে ডাক্তার।
রাসেলের মাথার ভিতর আজেবাজে চিন্তারা ঘুরাঘুরি শুরু করেছে। ঠিক বারোটার দিকে সে যখন অসুস্থ এক ছেলের চিকিৎসার টাকা নিজের পকেটে ভরছে তখনি তার ছোট ভাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। রাসেল ধর্ম মানে না খুব একটা। তাই ভাবে ব্যাপারটা কাকতাল হতে পারে। দেখা যাক রিপোর্ট কি আসে। কিন্তু এরপর সিনেমা দেখার আর মূড থাকেনা রাসেলের। কিন্তু ফিরেও যায় না। হাজার খানেক টাকা আছে পকেটে। সীমাকে নিয়ে দুপুরে খায়। সিনেমা দেখে।
বিকালে বাসায় ফোন করে। রাশেদের কি অবস্থা?
এখন একটু ভালো। তবে র্যাশ যায় নি।
ডাক্তার কি বলে?
যাইনি ত এখনো ডাক্তারের কাছে।
তাহলে তাড়াতাড়ি যাও।
তাড়াহুড়া করলে হবে? ডাক্তার না আসলে দেখাব কাকে? মায়ের মনে বড়ভাইয়ের ছোটভাইয়ের জন্য এইচিন্তাটা ভালো লাগে।
চিন্তা কর না। কিছুই হবে সিরিয়াস।
ধুর। তুমি তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে যাও।
রসেলের কিছুই ভালো লাগে না। ছোটভাইটার জন্য মন ধুকধুক করতে থাকে। তার পাপে কি রাশেদ কষ্ট পাচ্ছে? সে অনেকদিন পর আসরের নামাজ পড়ল। খোদাকে বলল আমি আর কোনদিন এইরক্ম কাজ করব না। তুমি রাশেদকে কষ্ট দিও না। রুমে ফিরেই প্রদীপকে ফোন করে রাসেল।
দোস্ত তুই কই?
ক্যাম্পাসেই আছি।
টাকা জমা দিসোস
কিসের টাকা?
অইযে রাইতে তুললাম।
না জমা দেই নাই।
দোস্ত এককাজ করবি তুই? আজকে জমা দিস না। আমি আলাদা করে কিছু ডোনেশন করমু।
ক্যান?
করমু। একটা পোলা মারা যাচ্ছে। আর আমার ত বেশ টাকা জমে আছে ব্যাঙ্কে। স্কলারশীপের হাজার পাচেক আছে।
পাচ হাজার দিবি?
না। হাজারদুই দিমুনে। তুই আজকে কালেক্টের টাকাগুলো সেন্টারে জমা দিস না।
আইচ্ছা।
ফোন শেষ করে রাসেলের ভালো লাগে। হাজার দুই যাক। তবু রাশেদের যেন কিছু না হয়।
রাত আটটার দিকে রাসেলের মা ফোন করে।
ডাক্তার কি বলে?
বলল ত সিরিয়াস কিছু না। এলার্জির কিছু ঔষুধ দিয়ছে।
রাসেলের বুকের ভিতর থেকে শ্বাস বের হয়। যেন অনেকক্ষন তার দম বন্ধ ছিল।
পরদিন প্রদীপ আসল।
দোস্ত তোরে শুধু শধু কিপটা বলি। তুই ত ভালো মানুষরে।
রাসেল হাসে। হাসিতে প্রান নাই।
প্রদীপ আমি যে তোরে টাকা দিমু এটা কাউরে বলছোস?
না
দোস্ত তোর সাথে একটা কথা আছে জরুরী।
বল।
দোস্ত আমি ত টাকাটা দিতে পারমু না। বিরাট দরকার পড়ছে আমার টাকার।
গতকালকে না বললি দিবি?
গতকালকে ত টাকাটার এত দরকার ছিল না।
কিসের জন্য টাকা দরকার ? আমাকে বল।
দোস্ত সেটা বলা যাবে না।
রাসেল পরের সপ্তাহে সীমাকে নিয়ে সেন্ট-মার্টিন যায়। সেটা আরেক গল্প।
সীমা ঠোট দুটো হাতের তালুতে মুছে জিজ্ঞেস করল "কি হয়েছে?" তার চোখে সামান্য জিজ্ঞসা। বিকেলে চা খেয়েছো কিনা সেটা জিজ্ঞেস করার সময়ও এর চেয়ে বেশী উৎসুক্য থাকে তার চোখে। রাসেল রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে আনমনে। কিছু হয়নি। তবে থামলে কেন? জানি না। সীমাকে আসল কারন বলার কোন ইচ্ছা নাই রাসেলের। থামার কারন মনটা খচখচ করছে গতকাল থেকে। এক হাজার টাকা চুরি করা ঠিক হয়নি। অবশ্য এটাকে চুরি বলা যায় না। সরিয়ে ফেলা ঠিক হয়নি বলা উচিত।
গতকাল হলে বসে গেম খেলছে রাসেন। কিছুক্ষন পর টিঊশনীতে যেতে হবে। সেখানে যাবার আগে গেম খেলে মুড ভাল করার চেষ্টা করছে। অতি গর্দভ এক ছাত্রকে পড়াতে যাবে। তাই যাওয়ার আগে মুড অন করা খুবই জরুরী। তার রুমমেট সুদীপ্ত এল। " দোস্ত! আমার মাথা-ব্যথা করছে। " "শুয়ে থাক। কিন্তু রাতে ত কালেকশনে যাওয়ার কথা। স্বপনকে বল। হারামজাদার ত তো্র সাথেই যাওয়ার কথা। স্বপন টিঊশনীতে আটকা পড়েছে। কথা বলতে বলতে রাসেলের মনযোগ সরে গিয়েছিল গেম থেকে। গেম গুলো এমন হয় যে সব ভুল ক্ষমা করা হবে কিন্তু মনযোগের অভাব ক্ষমা হবে না। রাসেল গালি দিল একটা। কপিটারের গালি-গালাজে কিছু আসে যায় না। রাসেল গেম pause করল। " তুই যা প্রদীপের সাথে। " তোর কাজ আমি করব কেন? তোকে স্টারে খাওয়াব। হুমম রাসেল একটু দুর্বল হয়। তা ছাড়া টাকা তোলা হচ্ছে একটা মহৎ কাজের জন্য। অন্য ভার্সিটির একটা ছেলে অসুস্থ হয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য টাকা তোলা হবে। রাসেল বলল ঠিক আছে। আমি রাতে এসে বের হব। রাসেল ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা আসলে একটা খুব ভালো health insurance করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা কালে কিডনী-লিভার যাই নষ্ট হোক বা ক্যান্সার হোক ছেলেরা টাকা পয়সা তুলে তার চিকিৎসা করবে। কখনও শোনা যায় না ভার্সিটির কোন ছাত্র বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। যেভাবেই হোক টাকা যোগাড় হবে। এইদানিং শুরু হয়েছে নতুন স্টাইল। কনসার্ট আয়োজন করা। কনসার্টে আসো। নাচো- গাও। কেউ নিয়ে আসে বান্ধবী। নাচো একসাথে। কেউ খাবে মদ-গাজা। আর তাদের টিকিটের টাকা দিয়ে মাদ্রাজ-সিঙ্গাপুরে হবে মধ্যবিত্তের কোন ছেলের কিডনী ঠিক হচ্ছে বা চোখ। সবাই খুশী। এটা সবার জন্যই win-win situation.পাচশত কিলোমিটার দূরের ভার্সিটির কোন এক অখ্যাত-মেধাবী ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে আর তার জন্য রাসেলকে হলের বিভিন্ন রুমে গিয়ে গিয়ে টাকা তুলতে হবে।
.........তুমি কি জানো অমুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্র মারা যাচ্ছে? তোমার সামান্য সাহায্য একটা ছেলের জীবন বাচাতে পারে। আমারা একটা পোস্টার দিয়েছিলাম ডাইনিং হলে। তুমি কি সেটা দেখেছো? সেখানে লেখা ছিল যে আজকে আমরা টাকা তুলতে আসব। তোমার যদি মনে হয় সাহায্য করা দরকার তাহলে তুমি সাধ্যমত টাকা দিতে পারো। যে যাই দিচ্ছে আমরা তাই নিচ্ছি।......
প্রদীপ কথাগুলো বলে। রাসেলকে শুধু টাকাটা হাতে নিতে হয়। এরপর ঢুকিয়ে রাখে একটা বক্সে। রুমে রুমে ঘুরে বেশ ভালো টাকা উঠছে। বারোটার দিকে শেষ হয় টাকা তোলা। প্রদীপ প্রচুর কথা বলে বলে ক্লান্ত। রাসেলকে বলে পনেরটা টাকা দে বাক্স থেকে। ক্যান্টিনে গিয়ে কোক আর সিগারেট খাই। রাসেলের চেহারায় নিশ্চয় অবাক একটা ভাব ফুটে উঠেছিল।নইলে প্রদীপ বলত না। এইরকম করে তাকাস ক্যান? এইটা হইল সিস্টেম লস। এইটা থাকবই। রাসেল বাক্স থেকে ত্রিশ টাকা বের করে। তুই গিয়ে বস। আমি টয়লেট ঘুরে আসি একটু।
এই টয়লেটে গিয়েই রাসেল হাজারখানেক টাকা সরিয়ে ফেলে বাক্স থেকে।
রাত দুইটা পর্যন্ত সীমার সাথে কথা হল। পরদিন ডেটের ব্যাপারটা নিশ্চিত করেই রাসেল ঘুমাতে যায়। তারা যাবে সিনেমা দেখতে একটা সিনে কমপ্লেক্সে।
ঘটনাটা এতটুকুই। হাজারখানেক টাকা সরিয়ে ফেলার জন্য রাসেলের মনে একটু খচ খচ করতে থাকে। যদিও ত্রিশ টাকা সরানো আর হাজার টাকা সরানো একই জিনিস। শুধু পরিমানে হাজারটাকা ত্রিশ টাকা থেকে বেশী। তবু একটা অসুস্থ ছেলের চিকিৎসার টাকা সরিয়ে নিয়ে সে স্বস্তিবোধ করেনা। মধ্যবিত্ত মুল্যবোধের সবটুকু এখনো যায় নি দেখে সে নিজেই একটু অবাক। তার ধারনা ছিল এই ধরনের মান্ধাতার আমলের মূল্যবোধ সে পার হয়ে এসেছে। যেদিন রাখিকে সে হঠাৎ করে জড়িয়ে ধরেছিল আর জোর করে দিয়েছিল একটা চুমু সেদিন তার মধ্যবিত্ত মূল্যবোধ বেশ যন্ত্রনা দিয়েছিল। এরপর বহুদিন পার হয়েছে। কিন্তু এতদিনেও যে পুরোপুরি যায়নি সাবেকি চিন্তা সেটা আবিষ্কার করে রাসেল দুঃখিত।
রিকশা থেমে গেল ফুলার রোডে। রাস্তার পাশে বসল দুইজন। আজকে সীমাকে দ্বিতীয় চুমু দিতে গিয়ে তার ভিতর এতগুলো চিন্তা একসাথে এল যে আগ্রহই চলে গেল। সীমা বেশ আধুনিক। সাড়া দেয় সবসমই ভালো। তবুও মনের ভিতর থেকে আজ জোর পাচ্ছে না।
সীমা রাসেলের হাত ধরল। তুমি কি বলবে তোমার কি হয়েছে? রাসেলের মনে হচ্ছে সীমার এখনো কোন আগ্রহ নাই জানার। শুধু অভিনয়। রাসেল সীমার কাছ ঘেষে বসল। সিনেমা শুরু হতে দেরী আছে আরো। আরেকবার চুমু দিবে??
সিধান্তটা নেয়ার আগেই ফোন বেজে উঠেছে। মা করেছে ফোন। রাসেল একটু বিরক্ত। ঝামেলা ভালো লাগে না।
-কি হইছে?
-রাশেদের শরীর গতরাত থেকে খারাপ।
রাসেলের বুক ধক করে উঠল। ছোটভাইটাকে সে ভালোবাসে খুব বেশী। বয়সের ব্যাবধান বেশী থাকায় ছোট ভাইয়ের সাথে কোনদিন ঝগড়া হয়নি। বরং রাসেল তার ভাইকে আদর করে অপরিমিত।
-কি হইছে রাশেদের?
-রাত বারোটার দিকে হঠাৎ করেই গায়ে র্যাশ বের হইছে? বারোটার কথা শুনে আবার হার্টবিট মিস হল একটা। ঠিক বারোটার দিকেই ত রাসেল হাজারখানেক টাকা সরিয়েছে।
-র্যাশ?
-হু।
-তোমরা আমাকে বল নাই কেন? ডাক্তার দেখাইছো?
-রাইতে ছদুর অইখান থেকে ওষুধ এনে খাওইয়াছি। র্যাশ কমছে। ডাক্তার দেখাইছি। মনে হয় এলার্জি। সিরিয়াস কিছু না।
-ডাক্তার কি বলে?
-টেস্ট দিছে। রিপোর্ট দিবে বিকালে। এরপর সন্ধ্যায় দেখাব ডাক্তারকে।
- আমারে কিন্তু সাথে সাথে জানাবে কি বলে ডাক্তার।
রাসেলের মাথার ভিতর আজেবাজে চিন্তারা ঘুরাঘুরি শুরু করেছে। ঠিক বারোটার দিকে সে যখন অসুস্থ এক ছেলের চিকিৎসার টাকা নিজের পকেটে ভরছে তখনি তার ছোট ভাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। রাসেল ধর্ম মানে না খুব একটা। তাই ভাবে ব্যাপারটা কাকতাল হতে পারে। দেখা যাক রিপোর্ট কি আসে। কিন্তু এরপর সিনেমা দেখার আর মূড থাকেনা রাসেলের। কিন্তু ফিরেও যায় না। হাজার খানেক টাকা আছে পকেটে। সীমাকে নিয়ে দুপুরে খায়। সিনেমা দেখে।
বিকালে বাসায় ফোন করে। রাশেদের কি অবস্থা?
এখন একটু ভালো। তবে র্যাশ যায় নি।
ডাক্তার কি বলে?
যাইনি ত এখনো ডাক্তারের কাছে।
তাহলে তাড়াতাড়ি যাও।
তাড়াহুড়া করলে হবে? ডাক্তার না আসলে দেখাব কাকে? মায়ের মনে বড়ভাইয়ের ছোটভাইয়ের জন্য এইচিন্তাটা ভালো লাগে।
চিন্তা কর না। কিছুই হবে সিরিয়াস।
ধুর। তুমি তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে যাও।
রসেলের কিছুই ভালো লাগে না। ছোটভাইটার জন্য মন ধুকধুক করতে থাকে। তার পাপে কি রাশেদ কষ্ট পাচ্ছে? সে অনেকদিন পর আসরের নামাজ পড়ল। খোদাকে বলল আমি আর কোনদিন এইরক্ম কাজ করব না। তুমি রাশেদকে কষ্ট দিও না। রুমে ফিরেই প্রদীপকে ফোন করে রাসেল।
দোস্ত তুই কই?
ক্যাম্পাসেই আছি।
টাকা জমা দিসোস
কিসের টাকা?
অইযে রাইতে তুললাম।
না জমা দেই নাই।
দোস্ত এককাজ করবি তুই? আজকে জমা দিস না। আমি আলাদা করে কিছু ডোনেশন করমু।
ক্যান?
করমু। একটা পোলা মারা যাচ্ছে। আর আমার ত বেশ টাকা জমে আছে ব্যাঙ্কে। স্কলারশীপের হাজার পাচেক আছে।
পাচ হাজার দিবি?
না। হাজারদুই দিমুনে। তুই আজকে কালেক্টের টাকাগুলো সেন্টারে জমা দিস না।
আইচ্ছা।
ফোন শেষ করে রাসেলের ভালো লাগে। হাজার দুই যাক। তবু রাশেদের যেন কিছু না হয়।
রাত আটটার দিকে রাসেলের মা ফোন করে।
ডাক্তার কি বলে?
বলল ত সিরিয়াস কিছু না। এলার্জির কিছু ঔষুধ দিয়ছে।
রাসেলের বুকের ভিতর থেকে শ্বাস বের হয়। যেন অনেকক্ষন তার দম বন্ধ ছিল।
পরদিন প্রদীপ আসল।
দোস্ত তোরে শুধু শধু কিপটা বলি। তুই ত ভালো মানুষরে।
রাসেল হাসে। হাসিতে প্রান নাই।
প্রদীপ আমি যে তোরে টাকা দিমু এটা কাউরে বলছোস?
না
দোস্ত তোর সাথে একটা কথা আছে জরুরী।
বল।
দোস্ত আমি ত টাকাটা দিতে পারমু না। বিরাট দরকার পড়ছে আমার টাকার।
গতকালকে না বললি দিবি?
গতকালকে ত টাকাটার এত দরকার ছিল না।
কিসের জন্য টাকা দরকার ? আমাকে বল।
দোস্ত সেটা বলা যাবে না।
রাসেল পরের সপ্তাহে সীমাকে নিয়ে সেন্ট-মার্টিন যায়। সেটা আরেক গল্প।
গল্প- মারিয়া
মারিয়ার খুব রাগ হচ্ছে।
আয়নায় নিজেকে দেখছে আর রাগ বাড়ছে। তার পরনে সবুজ একটা শাড়ি। শাড়িতে তাকে কুতসিৎ লাগছে। আয়নার দিকে তাকিয়ে সে একটা ভেংচি দিল। কপালে একটা টিপ পড়া উচিত। সে খয়েরি একটা টিপ বেছে নিয়ে পড়ল। তাকে আরো কুত্সিৎ লাগছে। এই মরার শাড়ির সাথে কিছুই যায় না।
আজকে এই শাড়ি পড়ার জন্য ফরহাদ চাপাচাপি করছে। সেই কারনেই পড়া। ফরহাদের রুচি বলতে কিছু নাই। গাধা টাইপ মানুষ।সব কিছু তার কাছে সবুজ। যা সবুজ তাই সুন্দর এই রকম একটা ভাব। নইলে এইরকম একটা শাড়ি কিনে আনতে পারে? আর তার ওপর এই শাড়িটাই পড়তে হবে। মারিয়া মনে মনে বলল গাধা...
তার একদম ইচ্ছা করছে না। কিন্তু পড়তে তাকে হবেই। এর আগে একবার না করেছিল। ফল ভালো হয়নি। গাধা কি করে ফেলে ঠিক নাই।
একদিন ফরহাদ ফোন করে বলে
-মারিয়া আজ দুপুরে চলে আসো আমাদের ফ্লাটে।
-দুপুরে কেন?
-মা-বাবা গ্রামের বাড়ি যাবে।
-তুমি একলা থাকবে ?
-হু...চলে আসো...
-আসব না।
-কেন?
-তুমি বাসায় একলা আমি বুঝি না কিছু?
-দূর!!! এইরকম সুযোগ বারবার আসে?
-আমার সুযোগের দরকার নাই।
-তুমি আসো ...নাইলে আমি কিন্তু একটা কিছু ঘটিয়ে ফেলব।
-দেখি কি ঘটাও...আমি আসব না।
আসব না আসব না বলেও ঠিকই বিকালে চলে এল ফরহাদের ফ্লাটে। এসে দেখে বিশাল হইচই। ফরহাদের দোস্ত অনিক খুব দৌড়াদৌড়ি করছে। ডাক্তার এসেছে। ফরহাদকে হাসপাতালে নিতে হবে...
হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে এলে মারিয়া প্রশ্ন করল ,
-তুমি বিষ খাইছ কেন মেয়ে মানুষের মত?
-আমি কি তোমার জন্য খাইছি নাকি?
-তুমি একটা গাধা। তুমি আমার জন্য খাও নাই?
-না।বাসায় কেউ নাই ভাবলাম কিছু বানিয়ে খাই।বেসনের বদলে ভুলে ইদুরের বিষ খেয়ে ফেলছি।
-তাই? ভুলে খাইছো? ইচ্ছা করে খাওনি?
-না। বললাম ত।
-তোমাদের ফ্লাট ত এগারো তলায়। অইখানে ইদুর আছে?
-তুমি যাও তো...আমার মাথাব্যাথা করছে।
-গাধা!
ফরহাদ সুস্থ হওয়ার পর তাকে এই শাড়িটি কিনে দেয়। সেই শাড়ি পড়ে আজ তারা দুইজন নদীরপাড়ে যাবে।
ফরহাদ পাঞ্জাবী পড়ে এসেছে। ফরহাদের পাশে মারিয়াকে আরো বিশ্রী লাগবে। মারিয়ার মন খারাপ হল একটু। ফরহাদ এসেই তাড়াহুড়ো শুরু করল। চলো...চলো...
মারিয়া আর ফরহাদ হাত ধরাধরি করে বসে আছে।সূর্য ডুবছে...লাল রঙের আকাশ। পানিতে ছোটছোট ঢেউ...মারিয়ার খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে যেন ফরহাদের সাথে বসে সারাজীবন কাটিয়ে দেয়া যায়। সে মনে মনে বলতে লাগল আমি ভালোবাসি।
ফরহাদ ফস্ করে বলল
-চল নৌকা করে ঘুরে আসি একটু।
-এইখানেই ভাল লাগছে।
-না। চল যাই।
-এই খানেই ভালো...আমার নৌকা চড়তে ইচ্ছে করছে না।
-না। চলো নৌকা চড়ি। নদী পার হয়ে অইপারে যাই।
-আমি যাব না। তোমার ইচ্ছে হলে যাও।
-আচ্ছা ঠিক আছে। আমি একাই যাচ্ছি।
ফরহাদ উঠে পড়ল। সে ঘাটের দিকে যাচ্ছে। মারিয়ার চোখে পানি চলে আসছে। ফরহাদ তাকে একা ফেলে চলে যেতে পারল?ফরহাদ নৌকার মাঝিকে কিছু বলছে। একবার মনে হল যেন ফিরে আসবে। কিন্তু না...সে নৌকায় উঠে বসল। নৌকা মাঝ নদীতে চলে গেল। মারিয়া মাথা নিচু করে আছে। তার চোখে পানি।
হঠাত চিৎকার ...মারিয়া মাথা তুলে দেখে ফরহাদ মাঝ নদীতে ঝাপ দিয়েছে। পাঞ্জাবী পড়েই সাতরিয়ে চলে আসল পাড়ে। মারিয়ার কাছে এসে থামল। মারিয়া মুখ ফিরিয়ে রেখেছে।
-মারিয়া ।আমার দিকে তাকাও।
মারিয়া দেখে ফরহাদের চোখে ভিজে চশমা। বোকাটা ভিজে গ্লাসের ভিতর দিয়ে তাকিয়ে আছে।
-তুমি কেদো না... আমি কোনদিন আর তোমাকে ছেড়ে যাব না।
-গাধা !
////////////////////////////////
আমার ফুটনোট-
এটা অনেকদিন আগে লেখা একটা গল্প(গল্প বললে মনে হয় বেশী বলা হচ্ছে)। তখন মারিয়া নামের একজনের সাথে নেটে পরিচয় মাত্র হয়েছে। তার নাম ব্যবহার করে এই গল্প লিখেছি। মারিয়া চরিত্রটার সাথে তার গভীর মিল। তাকে পড়তে দিয়েছি আর সে রেগে কাই। এটা একজন বিখ্যাত(বিকৃত যৌন রুচির)বাংলাদেশী লেখকের অনুকরন বলে আমাকে খুব ধমকিয়েছে। আমার সাথে তার যোগাযোগ এরপর থেকেই কমে গেলো। যাই হোক, যাকে নিয়ে লেখা তার অনুমতি ছাড়াই নেটে ছেড়ে দিলাম।
আয়নায় নিজেকে দেখছে আর রাগ বাড়ছে। তার পরনে সবুজ একটা শাড়ি। শাড়িতে তাকে কুতসিৎ লাগছে। আয়নার দিকে তাকিয়ে সে একটা ভেংচি দিল। কপালে একটা টিপ পড়া উচিত। সে খয়েরি একটা টিপ বেছে নিয়ে পড়ল। তাকে আরো কুত্সিৎ লাগছে। এই মরার শাড়ির সাথে কিছুই যায় না।
আজকে এই শাড়ি পড়ার জন্য ফরহাদ চাপাচাপি করছে। সেই কারনেই পড়া। ফরহাদের রুচি বলতে কিছু নাই। গাধা টাইপ মানুষ।সব কিছু তার কাছে সবুজ। যা সবুজ তাই সুন্দর এই রকম একটা ভাব। নইলে এইরকম একটা শাড়ি কিনে আনতে পারে? আর তার ওপর এই শাড়িটাই পড়তে হবে। মারিয়া মনে মনে বলল গাধা...
তার একদম ইচ্ছা করছে না। কিন্তু পড়তে তাকে হবেই। এর আগে একবার না করেছিল। ফল ভালো হয়নি। গাধা কি করে ফেলে ঠিক নাই।
একদিন ফরহাদ ফোন করে বলে
-মারিয়া আজ দুপুরে চলে আসো আমাদের ফ্লাটে।
-দুপুরে কেন?
-মা-বাবা গ্রামের বাড়ি যাবে।
-তুমি একলা থাকবে ?
-হু...চলে আসো...
-আসব না।
-কেন?
-তুমি বাসায় একলা আমি বুঝি না কিছু?
-দূর!!! এইরকম সুযোগ বারবার আসে?
-আমার সুযোগের দরকার নাই।
-তুমি আসো ...নাইলে আমি কিন্তু একটা কিছু ঘটিয়ে ফেলব।
-দেখি কি ঘটাও...আমি আসব না।
আসব না আসব না বলেও ঠিকই বিকালে চলে এল ফরহাদের ফ্লাটে। এসে দেখে বিশাল হইচই। ফরহাদের দোস্ত অনিক খুব দৌড়াদৌড়ি করছে। ডাক্তার এসেছে। ফরহাদকে হাসপাতালে নিতে হবে...
হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে এলে মারিয়া প্রশ্ন করল ,
-তুমি বিষ খাইছ কেন মেয়ে মানুষের মত?
-আমি কি তোমার জন্য খাইছি নাকি?
-তুমি একটা গাধা। তুমি আমার জন্য খাও নাই?
-না।বাসায় কেউ নাই ভাবলাম কিছু বানিয়ে খাই।বেসনের বদলে ভুলে ইদুরের বিষ খেয়ে ফেলছি।
-তাই? ভুলে খাইছো? ইচ্ছা করে খাওনি?
-না। বললাম ত।
-তোমাদের ফ্লাট ত এগারো তলায়। অইখানে ইদুর আছে?
-তুমি যাও তো...আমার মাথাব্যাথা করছে।
-গাধা!
ফরহাদ সুস্থ হওয়ার পর তাকে এই শাড়িটি কিনে দেয়। সেই শাড়ি পড়ে আজ তারা দুইজন নদীরপাড়ে যাবে।
ফরহাদ পাঞ্জাবী পড়ে এসেছে। ফরহাদের পাশে মারিয়াকে আরো বিশ্রী লাগবে। মারিয়ার মন খারাপ হল একটু। ফরহাদ এসেই তাড়াহুড়ো শুরু করল। চলো...চলো...
মারিয়া আর ফরহাদ হাত ধরাধরি করে বসে আছে।সূর্য ডুবছে...লাল রঙের আকাশ। পানিতে ছোটছোট ঢেউ...মারিয়ার খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে যেন ফরহাদের সাথে বসে সারাজীবন কাটিয়ে দেয়া যায়। সে মনে মনে বলতে লাগল আমি ভালোবাসি।
ফরহাদ ফস্ করে বলল
-চল নৌকা করে ঘুরে আসি একটু।
-এইখানেই ভাল লাগছে।
-না। চল যাই।
-এই খানেই ভালো...আমার নৌকা চড়তে ইচ্ছে করছে না।
-না। চলো নৌকা চড়ি। নদী পার হয়ে অইপারে যাই।
-আমি যাব না। তোমার ইচ্ছে হলে যাও।
-আচ্ছা ঠিক আছে। আমি একাই যাচ্ছি।
ফরহাদ উঠে পড়ল। সে ঘাটের দিকে যাচ্ছে। মারিয়ার চোখে পানি চলে আসছে। ফরহাদ তাকে একা ফেলে চলে যেতে পারল?ফরহাদ নৌকার মাঝিকে কিছু বলছে। একবার মনে হল যেন ফিরে আসবে। কিন্তু না...সে নৌকায় উঠে বসল। নৌকা মাঝ নদীতে চলে গেল। মারিয়া মাথা নিচু করে আছে। তার চোখে পানি।
হঠাত চিৎকার ...মারিয়া মাথা তুলে দেখে ফরহাদ মাঝ নদীতে ঝাপ দিয়েছে। পাঞ্জাবী পড়েই সাতরিয়ে চলে আসল পাড়ে। মারিয়ার কাছে এসে থামল। মারিয়া মুখ ফিরিয়ে রেখেছে।
-মারিয়া ।আমার দিকে তাকাও।
মারিয়া দেখে ফরহাদের চোখে ভিজে চশমা। বোকাটা ভিজে গ্লাসের ভিতর দিয়ে তাকিয়ে আছে।
-তুমি কেদো না... আমি কোনদিন আর তোমাকে ছেড়ে যাব না।
-গাধা !
////////////////////////////////
আমার ফুটনোট-
এটা অনেকদিন আগে লেখা একটা গল্প(গল্প বললে মনে হয় বেশী বলা হচ্ছে)। তখন মারিয়া নামের একজনের সাথে নেটে পরিচয় মাত্র হয়েছে। তার নাম ব্যবহার করে এই গল্প লিখেছি। মারিয়া চরিত্রটার সাথে তার গভীর মিল। তাকে পড়তে দিয়েছি আর সে রেগে কাই। এটা একজন বিখ্যাত(বিকৃত যৌন রুচির)বাংলাদেশী লেখকের অনুকরন বলে আমাকে খুব ধমকিয়েছে। আমার সাথে তার যোগাযোগ এরপর থেকেই কমে গেলো। যাই হোক, যাকে নিয়ে লেখা তার অনুমতি ছাড়াই নেটে ছেড়ে দিলাম।
Subscribe to:
Posts (Atom)