Showing posts with label serious. Show all posts
Showing posts with label serious. Show all posts

চলুন জানি মডু-মডারেশন সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ কি বলেছেন (সাথে বিটলসের একটা উপদেশ ফাও)

হুজুরদের একটা মাসআলা বই থাকে। বেহেশতি জেওর বা এই টাইপ। কোন একটা সমস্যা হলেই সেই বই খুলে দেখেন এবং ফতোয়া দেন। পাদ্রীরা সম্ভবত বাইবেলে খুজেন সমাধান। আমি ধর্মগ্রন্থে ধর্মীয় সমাধান খুজতে পারি। কিন্তু যে কোন ধরনের আদর্শিক সমস্যায় পড়লেই রবীন্দ্রনাথের কাছে ছুটে যাই।

ব্লগ রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর বহু পরে এসেছে। কিন্তু তবুও আমি ব্লগের মডারেটর সম্পর্কে তার একটা পরামর্শ খুজে পাইছি। সরাসরি ব্লগের মডুদের ব্যাপারে না। তবে মডারেশন সম্পর্কে তিনি বলে গিয়েছেন।
এবারও সরাসরি উদ্ধৃতি দিতে পারছি না। বই পত্তর সাথে নাই। কথাটা আছে গোরা উপন্যাসে। তিনশ পেইজের এই উপন্যাস থেকে খুজে বের করে নেন যদি আমাকে সন্দেহ হয়।

আসল কথায় চলে আসি।

একটা ছোট ছেলে যখন এমন কোন একটা দুষ্টুমী করে যা সামাজিক নিয়মের বাইরে বা বিরুদ্ধে যায়, তার মা অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী তাকে বেত্রাঘাত করে শাস্তি দেন। ছেলেটা রাগারাগি করে হয়ত রাতে ভাত খায় না। কিন্তু ঘুমুতে যাবার সময় ঠিকই মাকে জড়িয়ে ঘুমায়। মায়ের বিরুদ্ধে তার পরদিনই আর নালিশ থাকে না।
এই ছেলেটা বড় হয়। বড় হবার পরে যখন সামাজিক নিয়মের বাইরে যায়, তখন মা আসেন বা না আসেন, পুলিশ আসে। পুলিশ যদি তাকে সামান্য বেত্রাঘাত করেই ছেড়ে দেয়। তবুও সে সারাজীবন অই পুলিশটাকে ক্ষমা করতে পারে না। তার নিজের দোষ থাকুক বা নাই থাকুক।

কেনো এমন হয়? মায়ের শাসন সহ্য হয় কিন্তু পুলিশেরটা না? কারন সহজ। ভালোবাসা। মায়ের শাসনের সময় হয়ত ছেলেটা মনের কোন একটা গভীরতায় টের পায় , তার মা তাকে ভালোবাসে। সেইজন্যেই তার রাগ বা অভিমান টিকে থাকে না। পুলিশ যে শুধু কর্তব্য করছে( যদি সে ভালো পুলিশ হয়)। নইলে অকারন ক্ষমতা দেখাচ্ছে। এই জন্যেই পুলিশের ওপর রাগ আর মুছে যায় না।

ব্লগারদের প্রতিক্রিয়া থেকে আমি যা বুঝলাম, মডু পুলিশ পর্যায়ে আছে। যারা নানা রকম শাস্তির শিকার হচ্ছে তারা ভালোবাসা এর কোন আভাস পাচ্ছে না। এই কারনেই তাদের রাগ বেশি। কিছুতেই মডারেশনকে সহ্য হচ্ছে না।

মডুদের প্রতি-
মডারেশনের দরকার আছে কি নাই- সেটা নিয়ে আলোচনা করতে চাই না। আমি জানি না আপনারা এই ব্লগ কতটুকু মনযোগ দিয়ে পড়বেন। আপনাদের উদ্দেশ্যে আমি শুধু বলতে চাই- আমাদের ব্লগারদের ভালোবাসুন এবং সেটা যেন সত্যিকারের হয়। আমরা টের পাব আপনাদের ভালোবাসা। আমার ধারনা এখন সামুতে যেই অস্থিরতা, আন্দোলন, মডুদের প্রতি কটাক্ষ সবকিছুই কমে আসবে ধীরে ধীরে। বীটলসও বহু আগেই আমাদের কথা বলে গিয়েছে- ALL WE NEED IS LOVE

.....................................................................................
......................................................................................
মডুদের ব্যাপার নিয়ে এর আগে একবার ব্লগ লিখলাম ঈসপের গল্প হতে।
Click This Link আমার মনে হয় এর অন্তর্নিহিত কথাটা সবাই বুঝতে পেরেছেন।
আজকেও আবার মডুদের বিষয়ে আরেকটা ব্লগ লিখতে হল। এই ব্লগটা লিখলাম শুধু কাকনের জন্য। তিনি নাই, আমার ব্লগ দুনিয়াও ফাকা ফাকা লাগে। আমি জানি না কাকন অফলাইনে থেকে এই ব্লগ পড়ছেন কিনা। আরেকটা কথা এই নিক নিয়ে আমি জেনারেল। জানি না কয়জন পড়বেন এই ব্লগ। আমি তবু লিখে গেলাম। আমার কাজ আমি করেছি, আপনাদের কাজ আপনারা করেন।

সরকারের অর্থ অপচয় - চলুন ছোট একটা হিসাব করি

আসুন সরকারের কত টাকা অপচয় হচ্ছে তার একটা সরলীকৃত হিসাব করি। প্রথমই একটা বিশ্ববিদ্যালয় বেছে লই। ধরা যাক প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা। বুয়েটেরএক বছরের বাজেট ত্রিশ কোটি টাকার মত। ( আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন এটা বাজেট ছিল। এখন মনে হয় আরো বেড়েছে)। বছরে দিন ৩৬৫। তাহলে প্রতিদিন বুয়েট চালাতে সরকারের খরচ ত্রিশ কোটি/ ৩৬৫ = আট লাখ টাকা প্রায়, আসলে হিসাবটা হল ৮২১৯১৭.৮ টাকা।
চলেন আরেকটু হিসাব করি। বুয়েটের ছাত্র কতজন? গড়ে আটশ জন ধরে নিলাম। আরো ধরি পাচটা ব্যাচ আছে। এক টার্মে (সেমিস্টার) বুয়েটের খরচ ত্রিশ/২= পনের কোটি। এই টাকাটা খরচ হচ্ছে ৮০০x৫= ৪০০০ জন ছেলের পিছে। তাহলে প্রতি ছেলের পিছে এক সেমিস্টারে সরকারের খরচ কত? সহজ হিসাব। ১৫ কোটি/৪০০০ = সাইত্রিশ হাজার পাচশ টাকা। আমরা ধরে নিতে পারি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি হলে প্রতিটা ছাত্রকে সেমিস্টার প্রতি সাইত্রিশ হাজার পাচশ টাকা দিতে হত। সরকার প্রতিটা ছাত্রের হয়ে এই ব্যয় বহন করছে।

সরকার টাকা পায় কোথা থেকে? সারা দেশের মানুষের কাছ থেকে কর নিয়ে। এমনকি যে লোকটার আয় দিনে একশ টাকার কম সেও সরকারকে কর দেয় মূল্য সংযোজন করের মাধ্যমে। সুতুরাং সারাদেশের মানুষের টাকায় বুয়েটের একেকটা ছেলে পড়াশুনা করছে। দেশের মানুষের দাবি সামান্য। পড়ো আর পড়া শেষে আমাদের জন্য কিছু কর।

সারমর্মে চলে আসি। বুয়েট একদিন চালাতে সরকারের খরচ আটলাখ টাকা মাত্র এবং প্রতিটা ছাত্রের সেমিস্টার ফি আটত্রিশ হাজার পাচশ টাকা মাত্র।

এখন আমার প্রশ্ন। যদি বুয়েটের শিক্ষাবর্ষ একদিন পিছায় সরকারের কত টাকা লস হয়? পুরো আটলাখ মাত্র। কেননা সরকারের অনেকগুলো ইঞ্জিনীয়ার তৈরী একদিন পিছিয়ে গেল, কিন্তু খরচ ত ঠিকই করতে হচ্ছে। বুয়েটে অহরহ দুই সপ্তাহ পিছিয়ে যায় পরীক্ষা। এবার হিসাব করে বলুন সরকারের কত টাকা বুয়েটের ছাত্র শিক্ষকরা অপচয় করছেন।

ফাকা মাঠের ভিতর কালভার্ট বানানো হয়েছে। প্রথম আলো সেই ছবি ছাপিয়ে দিয়ে কাপিয়ে দিয়েছে দেশ। সারাদেশ জুড়ে কত কথাবার্তা। একটা কালভার্টের কত খরচ? সেটা কি আটলাখ টাকা থেকেও বেশি? বুয়েট একদিন পিছালে কেউ ত কোন আওয়াজ করে না। জনগনের পয়সার অপচয় করা পাবলিক ভার্সিটি গুলোর এইকাজ কি দুর্নীতির আওতায়? নাকি বাইরে?

বুয়েটের প্রতি আমার আলাদা রাগ নয়। এই হিসাবটা করলাম কেননা আমি সেখানকার ছাত্র ছিলাম। একটা ধারনা আছে বুয়েট সম্পর্কে। আর এই অপচয় ত শুধু বুয়েটে না। বাকি ভার্সিটিগুলোর হিসাব এর কাছাকাছি হবে। হয়ত উনিশ বিশ পার্থক্য।


( আমি ছাত্র অবস্থায় এই কথা গুলো বলেছিলাম। কিছু ছেলে, যারা পরীক্ষা পিছাতে চায় আমাকে মারধোরের হুমকি দিয়েছিল। ব্লগে মারতে পারবে না, কিন্তু হয়ত একটা গ্রুপ তৈরী হবে আমাকে অযথা হেনেস্থা করার জন্য। তবু আমি লিখলাম। আরেকটা কথা। এটা পুরানো ব্লগ। সামুতে অবশ্য প্রথমবারের মত দিচ্ছি।)

ফিলিস্তিনীদের জন্য আমার সামান্য সমবেদনা ছাড়া আর কিছু নাই, ভালোবাসা সব অন্যত্র রেখেছি

০১
অফিসে আমার পাশেই বসেন শহীদুল্লাহ সাহেব। তিনি সেদিন বললেন ভয়াবহ এক কাহিনী। এলাকার এক রাজনৈতিক নেতা বাসার কাজের ছেলেকে মেরে ফেলেছে। এরপর নিজের ছেলেকে লুকিয়ে রেখে এলাকার সবার কাছে বলে বেড়িয়েছে, বিপক্ষ দল তার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। নির্বাচন জিতে সেই নেতা ...বড় নেতা হয়ে গিয়েছে রাতারাতি।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, কাজের ছেলের মা-বাবা কিছু বললো না?
না স্যার! অই নেতা টাকা দিয়ে দিয়েছে বাপ-মাকে। টাকা পেয়ে আর ভয়ের চোটে ওরা আর কিছু বলে নাই।

০২
আমার বাসায় রান্না করে এলাকার এক বয়স পঞ্চাশের মহিলা। সে আমার জন্য তিনবেলা রান্না করে। বাসন-টাসন মেজে দেয়। প্রতিদিন মোটামুটি ঘন্টা তিনেক কাজ করতে হয়। তার বেতন মাসে তিনশ টাকা। তারমানে দিনে আমি তাকে দশ টাকা দেই। দশ টাকার জন্য সে তিনঘন্টা কাজ করে। দিনে তার আয় এক ডলারের কম, সুতরাং দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। আমি হিসাব করে দেখেছি ঘন্টায় এই মহিলার বেতন সাড়ে পাচ সেন্ট। আমার নিজের বেতন ঘন্টায় একডলার আট সেন্ট।

০৩
বাংলাদেশ কমন একটা ঘটনা লঞ্চডুবি। ডুবে যাওয়ার এত ভয় থাকার পরও কেন মানুষ দলে দলে উঠে লঞ্চে? উত্তরটা দিয়েছিল একজন বুয়া। আমাদের মেস থেকে তার আয় মাসে পনেরশ টাকার মত। ঈদের ছুটিতে তার বাসার সবার বাড়ি যেতে বাসে লাগে একহাজার টাকা (5X200), আসা যাওয়ায় শুধু ভাড়াই লাগছে দুই হাজার টাকা। লঞ্চে গেলে হাজারখানেকের ভিতর হয়ে যাচ্ছে। লঞ্চে যাওয়া ছাড়া উপায় কি?

যারা মারা যায় পত্রিকায় এক সপ্তাহের মত তাদের এবং আত্মীয়স্বজনদের ছবি থাকে। এরপর সব ভুলে যাই আমরা। আমার যতটুকু মনে আছে, এক বছরে বারশ এর মত মানুষ শুধু লঞ্চ ডুবিতে মারা যায়। (ফিলিস্তিনে হামলায় মৃতের সংখ্যা এখনো এত হয় নাই। টুইন টাওয়ারে কতজন মারা গিয়েছিল? )

০৪
আমার সমবেদনা ফিলিস্তিনী নারী-পুরুষ আর শিশুদের জন্য। আমার সমবেদনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কুত্তার মত মারা পড়া ইহুদীদের জন্য। আমার সমবেদনা ইরাকী জনগনের জন্য।

কিন্তু আমার ভালোবাসার কিছুই এদের জন্য নাই।যে পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা ভিক্ষে করে জীবন ধারন করে আমার ভালোবাসা তাদের জন্য। যে মহিলা আমার বাসায় ঘন্টায় সাড়ে পাচ সেন্টের জন্য কাজ করে আর আমার কাছ থেকে প্রতিদিন পেয়াজ,মসলা এইসব চুরি করে নিয়ে যায়-আমার ভালোবাসা তার জন্য রাখা। যে বাবা-মা সামান্য টাকা বিনিময়ে সন্তানের মৃত্যু ভুলে যেতে বাধ্য হয়-আমার ভালোবাসা তাদের জন্য।
নিজের ঘরের মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা না বলে,তাদের জন্য কান্না-কাটি না করে-বাইরের কারোর জন্য আমি ভালোবাসা খরচ করতে পারি না। যে আরব ভাইদের জন্য আমার কান্না কাটি করা উচিত শুধু গরিব বলে তারা আমার প্রাপ্য সম্মান দেয় না। আমার শ্রমিক ভাইকে দেশে ফিরিয়ে দেয়। অর্থ আর নৈতিকতার নিদারুন অপচয় করার পর, মুসলমান ভাই বলেই আমার ভালোবাসার একটা অংশ ফিলিস্তিনীরা পেতে পারে না।

আমার ভালোবাসা নাই ফিলিস্তিনীদের জন্য। আমি বড়জোর সমবেদনা দেখাতে পারি। নিজের লড়াই তারা নিজেরা করুক। আমি তাদের জন্য নিজের একটা __ ও ছিড়ব না।






বিঃদ্রঃ- শেষ লাইনের শূন্যস্থানে চুলের হিন্দি শব্দ হবে।

এক চোখ নষ্ট বৃদ্ধা আর তার রাজকুমারী মেয়ে

(আমার ঠিক মনে নাই) বিষ্ণুর তৃতীয় বা চতুর্থ অবতার হলেন বরাহ। বরাহ মানে শূয়োর। তা তিনি শুয়োর হিসাবে মর্ত্যে এসেছেন। তার কাজ হল কোন একটা দৈত্য মেরে দুনিয়ার শান্তি ফিরিয়ে আনা। সেটা তিনি সুচারুভাবেই সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু কাজ শেষ হবার পরও দেখা গেল তিনি স্বর্গে ফিরে আসছেন না। স্বর্গ জুড়ে তোলপাড়? কই?? বিষ্ণু কই???

স্বর্গ থেকে দেবদূত গেল। খোজ লাগানোর পর তাকে আবিষ্কার করা হল নদীর তীরে। প্রখর রৌদ্রের ভিতর কাদা মেখে সারা শরীরে তিনি শুয়ে শুয়ে আলস্য করছেন। দেবদূত গিয়ে বলল, " চলেন। স্বর্গে হাহাকার পড়ে গিয়েছে"

বরাহ বললেন, " আমি কিছুতেই ফিরে যাব না। এইখানেই ভালো আছি।"



যার একটু ইচ্ছেয় বহু কিছু হয়। মহা পরাক্রমশালী একজন দেবতা শেষ পর্যন্ত তার স্থান খুজে পেয়েছেন একপাল শুয়োরের মাঝে।



১.

আমার ভবঘুরে শ্রেনীর প্রতি আলাদা মমতা আছে। মমতার একটি অংশ বরাদ্দ শ্রমজীবি মানুষদের জন্যও। সম্ভবত খুব কাছ থেকে এদের দেখিনি বলেই মমতা এত গাঢ়।থিসিসের কাজে গিয়েছি মানিকগঞ্জের একটা গ্রামে।সুহাদ, আলামিন আর আমি। সেখানে আমাদের তিনজনের কাজ একটা জরিপ চালানো। মানুষ একদিন কয় লিটার পানি ব্যাবহার করে সেটা বের করাই জরিপের মুখ্য উদ্দেশ্য। সুহাদ বেচারা প্রশ্ন করে। আমি আর আলামিন সাথে থাকছি ব্যাস এইটুকুই। উনিশ বছরের এক তরুনীকে যখন সুহাদ প্রশ্ন করে আপনি টয়লেটে কয় লিটার পানি ব্যাবহার করেন তখন সেটা একটা দেখার মতই বিষয় হয়।



দৈবচয়নের ভিত্তিতে আমরা বিভিন্ন ঘরে যাচ্ছি। শেষের দিকে মনে হল একজন নিম্ন আয়ের পরিবারকেও জিজ্ঞেস করি। সাথের স্থানীয় গাইডকে বললাম এই রকম একটা ঘরে নিয়ে যেতে।



নদীর একেবারের পাড় ঘেষে ঘর। ঘরে কোন পুরুষ নাই। একজন বৃদ্ধা মহিলা আছেন। একচোখে বোধহয় ছানি পড়ে গেছে। দৃষ্টিগ্রাহ্য যে সে একচোখে দেখে না। পেশা তার মাটি কাটা। দিন মুজুরের কাজ করেছে সারাটি জীবন ধরে, তার সারা যৌবনে। এখন আর শক্ত সমর্থ না। এখন জীবন চলছে পরের বাড়িতে ছোট-খাটো কাজ করে আর ছাগল পেলে। মাসে তার আয় হাজার দুয়েকের মত। ছোট একটা ছনের ঘর।সেখানে একটা চৌকি পর্যন্ত নাই। অনুমান করলাম চাটাই ( মাদুর বলা যায় না কিছুতেই) পেতে রাতে থাকে। ঘরের পাশে কিছু ফলের গাছ লাগিয়েছে। সেখান থেকেও কিছু আয় হয়। প্রশ্নোত্তরের এক পর্যায়ে বৃদ্ধার মেয়ে এল পাশের বাড়ি থেকে। পিড়ি পেতে দিল যেন আমরা বসতে পারি।





গল্পের আরেকটা ভূমিকা শেষ হল।



২.



যা বলছিলাম। বুড়ির মেয়ে এসে পিড়ি পেতে দিল। কিন্তু আমরা কেউ বসলাম না। চারজন আছি। চারজনের বসার জায়গা সেখানে নাই।সুহাদ খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন করা শুরু করল। আর আমি দু'চোখ ভরে দেখছিবুড়ির মেয়েটাকে।

গ্রীষ্মের দুপুরে আমরা গায়ের পথে হেটেছি ঘন্টা পাচেকের মত। গরমে অতিষ্ঠ। হেটে হেটে পা দুটো ক্লান্ত। ঠিক এইসময় এই মেয়ের উপস্থিতি যেন হঠাৎ করেই ঝুম বৃষ্টি শুরু হওয়া। ইচ্ছে করেই তার নাম লিখছি না। মেয়েটার বয়স কত হবে? হুমমম... আঠারো বা সতেরো।

একটু আগেইসে গোসল করেছে। নাহ! গোসল করি আমরা, সে যা করেছে সেটা যেন গোসলের চেয়ে বেশী। বিবর্ন গাছকে বর্ষা যেভাবে সবুজ করে তার গোসলের সাথে সেটার গভীর মিল। মাথায় কাল কুচকুচে চুল। কুচকুচে কালো চোখের মণি আর গভীর সাদা চোখ। এইরকম চোখ খুব বিরল।



যৌবন তার দেহে প্রস্ফুটিত। চলনে একটু ধীর। কথাবার্তায় গ্রীষ্মের মাঝে শীতল বায়ু। ধীরে প্রবাহিত কিন্তু যেন শান্তি নিয়ে আসে। গায়ের রঙ কাল। এই কাল তার সৌন্দর্যকে যেন আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। নীল রঙের একটা জামা পড়ে আছে। কোন কারুকার্য নাই তাতে। আর এতেই মনে হচ্ছে উজ্জ্বল শুভ্র সে। তার আচরনে যে আভিজাত্য সেটা কেউ তৈরী করতে পারে না, জন্ম থেকেই নিয়ে আসতে হয়।



আমি সেই উঠানে দাঁড়িয়ে আছি স্থানুর মত। মনের ভিতর ইচ্ছেরা করছে ছুটোছুটি। থেকে যেতে ইচ্ছে করছে এখানে। এদের পাশে ছোট একটা কুড়েঘর তৈরী করব। ছাগল পালব আমিও দু'চারটা।সকালে পালা মুরুগিগুলো আর কবুতরগুলোকে কিছু ধান খেতে দিয়ে বের হয়ে যাব মাটি কাটতে বা কোন ফসলের ক্ষেতে কামলা খাটতে। বিকেলে ফিরে এসে সামনের নদীটির ঠান্ডা পানিতে দিব বড় দুইটা বা তিনটা ডুব। একটু সাতরিয়ে এসে ছাগলগুলোকে ঘরে নিয়ে আসব। মুরগিগুলো গুনে গুনে তুলব ঘরে। কবুতরগুলোকে দিব শেষ বিকেলের খাবার।



আর তার কোন একটা উপকারে আসার প্রানপনে চেষ্টা করব। সকালে তার ছাগলগুলোকে আমার সাথে নিয়ে নিব। বিকালে আমার গুলোর সাথে সেগুলোকে ফিরিয়ে আনব। তাকে অনুরোধ করব আমার জন্য দুপুরের রান্নাটা করে দিতে।



এই যে দুশ্চিন্তাহীন মুক্ত জীবন, কোন একটা উদ্দেশ্য সফল করার জন্য যেখানে প্রানপণে খাটতে হয় না। এইখানে নিম্নস্তরের (!) জীবনে যে সুখ লুকিয়ে তার খোজ আমি এতদিন পাইনি। আমার মনে হচ্ছিল গহীন বনে অনেক হিংস্র জীব-জন্তুর পাহারায় যে গুপ্তধন থাকে বা প্রশান্ত মহাসাগরের কোন একটা নির্জন দ্বীপে ষোড়শ শতকের কোন জলদস্যুর গুপ্তধন আমার সামনে উন্মোচিত। শুধু দুই হাত ভরে তুলে নেয়া।



কিন্তু আমি একটা গাধা। আমার নাকের সামনে একটা মূলা ঝুলে আছে। সেই মূলাটা ধরার জন্য আমি শহরে ফিরে এসেছি। কিন্তু আমার জীববে সবচেয়ে গাঢ় ভালোবাসা রেখে এসেছি সে বাড়ির ঊঠানে, সেই সদ্য যৌবনা নারীর জন্য আর তার রাজকীয় জীবনটার জন্য। মুর্খ আমি সেই জীবনের একজন হতে পারলাম না।

কজন অসহায় বৃদ্ধের মুখ

আমার মনে নাই প্রথম কবে আমি জানতে পারি মানুষ মারা যায়। কেউ আমাকে জানিয়েছে নাকি আমি চারপাশ থেকে এই উপাত্ত সংগ্রহ করেছি সেটাও বলতে পারছি না। আমি প্রথম ঘড়ি দেখা শিখেছি কখন সেটা আমার মনে আছে। কবে আমার প্রথম দাত পড়ল সেটাও আমার মনে আছে। কিন্তু মৃত্যুর ব্যাপারটা আমার কিছু মনে নাই। অবশ্য প্রথম মৃতদেহ কাছ থেকে দেখার স্মৃতি মনে আছে।



আমি তখন থ্রী তে পড়ি। স্কুল শেষে বাসায় ফিরে আসছি। রাস্তার পাশে চাটাই এর ওপর রাখা লাশ একটা। সেই লাশ কিছুক্ষন আগেই স্থানীয় লেক থেকে তুলে আনা হয়েছে। লাশটা পাচ টুকরা করা। দুই হাত, দুই পা আর বাকি অংশ। একজন লোক খুব বিরক্ত ভঙ্গিতে পাশের জনকে ব্যাখ্যা করছে কি কষ্ট করে সে লাশের টুকরা গুলো তুলে এনেছে। আমি মাথাটা দেখিছি। ঠোটটা ছিল তার কুচকুচে কালো। কয়েকদিন পানির নিচে থাকলে এইরকম হয় কিনা কে জানে।



ভূমিকা শেষ হল।



অনেকদিন পরের কথা। আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুন। টিউশনি করতে যাচ্ছি পুরান ঢাকায়। রাস্তায় জ্যাম। পুরান ঢাকার গলিতে যা হয় আরকি। রিকশায় বসে দেখি রাস্তার পাশে এক ফকির শুয়ে আছে। তার মাথার কাছে বমি।সে বড় বড় নিঃস্বাস নিচ্ছে। প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে সাথে ঘড়ঘড় আওয়াজ হচ্ছে। বছর পাচ বা ছয়ের একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার হাতে একটা পাউরুটি। পাউরুটি থেকে ছোট ছোট টুকরা ছিড়ে মুখে পুড়ছে। বৃদ্ধের অসহায় মুখ আর ছোট মেয়েটার চোখের গভীর আগ্রহ দেখে আমার বুকের ভিতরটা হঠাৎ করেই ধ্বক করে উঠল। আমার মনে হল এই বৃদ্ধ মারা যাবে রাস্তার পাশে আর ছোট মেয়েটা দেখবে প্রথম মৃত্যু। আমার তখন রিকশা থেকে নেমে বৃদ্ধকে কোন একটা হাসপাতালে নেয়ার ইচ্ছে হচ্ছিল। আবার ঝামেলা ঘাড়ে নিতে ইচ্ছে করছিল না। দুটো বিপরীতমুখী ইচ্ছার সংঘর্ষ চলতে চলতে সময় শেষ। জ্যাম আর নেই। রিকশা চলতে শুরু করেছে। আমি ভাবলাম হয়ত বৃদ্ধের কিছুই হবে না। এখন থাকুক পড়ে। ফেরত যাবার সময়ও যদি দেখি পড়ে আছে তাহলে হাসপাতালে নেবার একটা চেষ্টা করব।

টিউশনীতে আমি কখনও একঘন্টার বেশী পড়াই না। সেদিন মন খারাপ ছিল খুব। তাই তাড়াতাড়ি ফিরে এলাম। আসার পথেও সেই একই জায়গায় জ্যাম। রাস্তার পাশে মানুষের জটলা। ময়লা কাপড়ে মুড়ে রাখা হয়েছে লম্বাটে কিছু একটা। কেউ না বলে দিলেও আমি জানি সেটা কি এবং কার লাশ। ছোট মেয়েটাকে দেখলাম না কোথাও। ভিড় করে থাকা লোক গুলোর মুখে বিরক্তি। হারামজাদা মরার আর জায়গা পেল না। সারা দুনিয়া থাকতে আমাদের ঘরের সামনে এসে পরে মরে আছে।





জ্যাম একসময় শেষ হয়। রিকশা চলতে থাকে। আমি হলে ফিরে আসি। সেদিন গভীর রাত্রে আমি উপলব্ধি করি আসলে আমি প্রথম বারের মত মৃত্যু দেখলাম। এর আগে আমি লাশ দেখিছি। কিন্তু মৃত্যু দেখিনি কোন মানুষের।



অবহেলায় রাস্তার পাশে মরে পড়ে থাকা বৃদ্ধের জন্য আমার খুব মায়া হচ্ছিল। সে কি মৃত্যুর আগে কিছু বলে যেতে চাচ্ছিল? সেই ছোট মেয়েটা কি কিছু শুনে রেখেছে? বালিকাটির গভীর আগ্রহের দৃষ্টির কথা বার বার মনে পড়ছিল। আমি টের পাচ্ছিলাম বাকি জীবন আমাকে একজন অসহায় বৃদ্ধের মুখ স্মরন রাখতে হবে। আমি সে রাতে কেদেছিলাম অনেক। দুটা কারনে আমার কান্না। কেদেছিলাম এটা উপলব্ধি করে যে আমি এবং অনান্য মানুষ সবাই খুব অসহায়। দ্বিতীয় কারনটা হল আমার সাথে একজন মহান মানুষের মুল পার্থক্যটা কোথায় সেটাও সেদিন আমি প্রথম বুঝতে পারি।

সংলাপ ৪

ছেলে- হিন্দী শেখা শুরু করলাম।
মেয়ে- তাই? পরীক্ষা হোক কতটুকু জানো। বলো মাহী মানে কি?-মাহী ... হুমম... প্রিয়।
-পারছো। এইবার কঠিন একটা শব্দ জিজ্ঞেস করি, বলো সাইয়া মানে কি?
-যদি পারি, তবে কি পাব পুরষ্কার?
-একটা চুমু দিব।
-সাইয়া মানে বন্ধু।
-পারছো।
-হা হা হা।
-এইবার বলো দামন মানে কি?
-এইটা পারলে কি পুরস্কার?
-চুমু।
-কিন্তু এটা আমি দিব, এবং আমার যেখানে ইচ্ছে।
-থাক। অর্থ বলা লাগবে না। বলো হঠাৎ হিন্দী শেখার জন্য ক্ষেপে উঠলে কেনো?
-তোমার জন্য। আমাদের প্রেমকে টিকিয়ে রাখার জন্য। ইদানীং কালের প্রেমের ভাষাই হচ্ছে হিন্দী।
-আমার জন্য? প্রেমের জন্য? চাপা মাইরো না।
-তোমার জন্যেই ত বটে। তুমি ফ্লুইড মেকানিক্স জানো না, আমি জানি না ইতিহাস। আমি দেখি হলিউডের মুভি, তুমি দেখো বলিউড। আমি শুনি না গান, তুমি গানের পাগল। আমাদের কথা বলার জায়গা কমে যাচ্ছে। তুমি একসময় বিরক্ত হয়ে পড়বে। যেন আমাকে কোনোদিন য়ার আকর্ষনীয় না লাগে? তাই হিন্দী শেখা শুরু করলাম। এখন তোমার সাথে সিনেমা নিয়ে কথা বলা যাবে, গান নিয়ে কথা বলা যাবে। কপাল খারাপ হলে যদি আমরা বিয়ে করি, একসাথে বসে সিরিয়ালও দেখতে পারব।
-হুমম। তুমি আমার জন্য হিন্দী শিখলে, আমি তোমার জন্য কি শিখি?
-আমার পরানে যে সুর বাজিছে, তাহার তালটি শেখো।

সংলাপ ৩ ( প্রথম চুমু পর্যায়)

ছেলে-এসো আজকে ঠিক করি কিভাবে প্রথম চুমু দিব তোমায়।
মেয়ে-তুমি ফালতু হয়ে যাচ্ছো। চুমু কি আগে থেকে বলে কয়ে , হবে নাকি।
-ও। তারমানে তুমি আকস্মিকতায় বা অনিশ্চয়তায় বিশ্বাসী।
-না আমি ভদ্রতায় বিশ্বাসী। এটা নিয়ে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।
-কিন্তু আমি যে পুরা প্ল্যান করে ফেলেছি।
-কি প্ল্যান শুনি?
-একটু আগেই না বললে, এই বিষয়ে কথা বলবে না।
-আমার জানা জরুরী। তুমি বল।
-বিকাল বেলার অল্প আলো।
তোমাকে খুব রহস্যময় মনে হবে।
তুমি খুব উচ্ছল থাকবে সেদিন।

আকাশে কিছু পাখি ইতস্তত ঘুরছে।
আমি তোমাকে বলব, পাখিগুলোকে দেখো।
তুমি মুখ তুলে তাকাবে। মুগ্ধ হয়ে পাখি দেখবে।
আমি নিচু স্বরে বলব, শুনো আকাশ!
ক্লান্ত গাছেরা, উত্তরের হিম বাতাস,
ঝরা পাতা, দিনশেষের ক্লান্ত পাখির দল
এই নারী আমার।

আর তখন মুখ নামিয়ে আমার দিকে তাকাবে
আমি তোমাকে জোর করে চুমু দিব।

-প্ল্যান ভালোই করেছো। বলো, জোর করে চুমু দিতে হবে কেনো?
-কেননা, টিএসসির অনেক মানুষের সামনে তুমি লজ্জা পাবে।



......................................................................
পাঠকদের জানিয়ে দেই, ছেলেটি এই প্ল্যান অনুসারে কিছু করতে পারেনি। সে একদিন মেয়েটার লম্বা চুল সরিয়ে অনাবৃত পিঠে তার প্রথম চুমু দেয়। সেই কাহিনী আরেকদিন বলব।

সংলাপ ২

ছেলে- গতকাল একটা 3x দেখলাম।
মেয়ে-হুমম।
ছেলে-ভালোই ত লাগল।
মেয়ে-হুমম।
-লাইটিং এর কাজ ভালো ছিল। অভিনয়ও চলে টাইপের। তবে সেখানে অভিনয়ের ত তেমন কিছু নাই।
-হুমমম।
-তুমি দেখছো এইগুলো আগে?
-হুমম!দেখছি। বান্ধবীর বাসায়।
-তুমি হুমম হুমম করছো কেনো?
-আচ্ছা! বলো কতদিন পর আমাদের দেখা হল?
-দুই সপ্তাহ ত হবে।
-তের দিন হবে।
-যাহা তের তাহাই চৌদ্দ।
-তেরো দিন পর, তোমার সাথে আমার দেখা আর প্রথম কথাটা তুমি কি বললা?
(মেয়েটা কিছু একটা ছুড়ে ফেলল রাস্তায়। পায়ের কাছেই পড়েছে ছেলেটার। একটা ফুল)
ছেলে-ফুলটা আমার জন্য ছিল?
মেয়ে-না! এই এলাকায় একটা ছাগল ছিল যেটা ফুল খেতে ভালোবাসে। তার জন্যে এনেছিলাম।
-এই কথা দিয়ে কিন্তু প্রমান হল আমি ছাগল না। কেননা আমার জন্য এটা আননি।
-কিন্তু গরুও ত ফুল খায়।
-আমাকে কি আদর করে গরু বললা?
মেয়েটা কিছু বলে না।
ছেলে- আচ্ছা ঠিক আছে। আমি আর একটা প্রশ্ন করব। একবারই প্রশ্ন করব, তুমি যা উত্তর দিবে আমি সেটাই মেনে নিব। বলো গরু যে বললা, আমাকে কি ষাড় মনে হয় না বলদ?
-ছিঃ
ছেলেটা এই পর্যায়ে ফুলটা তুলতে যায়।
-খবরদার ফুলটা তুলবে না।
-কিন্তু মনে হচ্ছে এটা আমার জন্যই আনা হয়েছিলো। তাই চিবিয়ে খাওয়ার একটা চেষ্টা নিতে হবে। কাটা গলায় না বিধলেই হল।
-অন্তত একটা কারন বলো যেটা শুনে আমি তোমাকে ফুলটা দিতে পারি।
-আমার বয়স বাইশ আর গতকালই আমি জীবনের প্রথম 3X দেখছি।

কথোপকথন-০১

ছেলে আর মেয়ের চ্যাট চলছে
মেয়ে-আচ্ছা! অনেকদিন চ্যাট করার পর আজ দুপুরে আমাদের প্রথম দেখা ত হল, বলো কেমন লাগল আমাকে।
ছেলে- তোমাকে বেকুব লাগল।
মেয়ে-বেকুব? আমাকে বেকুব লাগল কেনো বল ত?
ছেলে- এর আগে বল। মন খারাপ হল শুনে?
-মাইন্ড করলে কি খুব অবাক হবে?
-প্রশ্নের বদলে প্রশ্ন। আমার সাথে থেকে, এক বেলাতেই স্মার্ট হয়ে যাচ্ছো।
-তুমি আসল কথা বল, বেকুব লাগল কেনো?
-কারন তুমি অল্প পরিচয়ে নেটের একটা ছেলেকে ফোন নাম্বার দিয়েছো। দেখা করতে রাজি হয়েছো। যথা সময়ে উপস্থিত ছিলে। একেবারে জায়গা মত। এবং তুমি যা আমাকে নেটে বলেছো, ঠিক সেই পোষাকেই ছিলে।
-এতেই বেকুব হয়ে গেলাম?
-হ্যা! আমি ভেবেছিলাম গিয়ে দেখব, আমার কোনো বদমাশ দোস্ত দাত কেলিয়ে হাসছে।
-তোমার ভিতর সন্দেহ ছিলো!আমি বলেছি আমি মেয়ে, এরপরও তোমার সন্দেহ ছিলো !!!!
-হ্যা! বুদ্ধিমানরাই সন্দেহ প্রবন হয়।
-নিজের বুদ্ধির ওপর তোমার খুব বেশি আস্থা। শুনতে ভালো লাগে না।
-কেনো?
-কিছুটা ইনসাল্টিং।
-আমার বুদ্ধিতে যদি তুমি ইনসাল্ট ফিল করো, তাহলে ত সত্যিই তোমার বুদ্ধি কম।
-আচ্ছা! বুদ্ধিমান সাহেব, যদি বলি ,আমি যে ফোন নাম্বারটা আপনাকে দিয়েছি। সেটা আমার দ্বিতীয় নাম্বার। এটা ব্যবহারই করি না বলতে গেলে।আসলটাই দেই নাই।
-তাহলে আমি বলব, আপনি কিছুদিনের ভিতরই আপনার আসল নাম্বারটা আমাকে দিবেন।
-এত আত্মবিশ্বাস!
-হ্যা
-কিন্তু আজ দুপুরেই ত আমার সাথে দেখা করার সময় তোমার হাটু কাপছিলো।
-হা হা হা! তুমি টের পেয়েছো তাহলে?
-হ্যা পেয়েছি। এই সাহস নিয়ে তুমি আবার নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো আমি তোমাকে ফোন নাম্বার দিব?
-হ্যা। রাখি। কেনো না আমিও তোমার একটা জিনিস টের পেয়েছি।
-কি টের পেয়েছো শুনি?
-আমার জন্য তোমার বুকে ভালোবাসার ছোট একটা বীজ আছে। সেটা থেকে চারা গজাবে নিশ্চয়ই।

পাথরের ফুল জলের মূর্তি

০১
ফোন টুংটাং আওয়াজ করছে। ফারহানা ফোন ধরে হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে শুনা গেলো বিড়ালের ডাক, মিঁউ মিঁউ।
-কে কে ?
-মিঁউ মিঁউ
-কে?
-আরে আমি!! ফারহানা এইবার তুহিনকে চিনতে পারে।
-অ তুমি। তা ছাগলের মত ম্যা ম্যা করলেই হত। ঠিকই চিনে ফেলতাম।
-ছাগলের মত!! আবার অপমান করলা তুমি। যদি আমি ভালো ছেলে না হতাম, তবে কবেই তোমার যন্ত্রনায় সন্ন্যাসব্রত নিয়ে হিমালয়ে চলে যেতাম।
-চাপা মাইরো না। তোমার ক্ষমতায় সন্ন্যাস নাই।
-হুমম। একদিন দেখিয়ে দিব। কিন্তু কথা হল বিড়ালের ডাক দেবার পর আমাকে চিনলে না কেন?
-অনেকেই বিড়ালের মত ডাকতে পারে। খালি তুমি একলা ত আর আমার পিছে ঘুর ঘুর করো না।
-আর কে ঘুর ঘুর করে ?? ওদের হাড্ডি ভেঙ্গে গুড়া করে দিব আমি।
-শুনো! তোমার চাপা শুনতে আমার ভালো লাগছে না। ভার্সিটিতে যেতে হবে। এখন রাখি।
-দাড়াও। একমিনিট! মিঁউ মিঁউ মিঁউ। সারাদিন ত বিড়ালের সাথে থাকো। বলো এর অর্থ কি?
-জানি না।
-এর অর্থ এসো চাটাচাটি করি।
ফারহানা ফোন কেটে দিল।

০২
তুহিনের এসএমএস- আজকে নিয়ে তিনদিন হল তুমি আমার এসএমএস এর উত্তর দাও না। ফোন ধরছো না। আমি আগামীকাল সন্ন্যাস নিয়ে হিমালয়ের দিকে রওয়ানা হব।
তুহিনের পরদিনের এসএমএস- ঠিক আছে! আরেকদিন সময় দিলাম। আগামীকাল ঠিকই চলে যাব।


০৩
তুহিনের চিঠি
ফারহানা,
ভালো আছো? আমি জানি তুমি ভালো আছো! শুধু আমিই ভালো থাকতে পারি না। সব তোমার দোষ। তুমি আমাকে কাছে ডাক, আবার এমনভাবে ঠেলে দূরে সরিয়ে দাও যে, ভালো লাগে না কিছুই।
ফেনিয়ে ফেনিয়ে কিছু বলার ইচ্ছে আমার নাই। সোজা কথা বলি।
সন্ন্যাসী হবার একটা আশা নিয়ে ঘর থেকে বের হলাম। সাথে টাকা পয়সা নিয়ে নিয়েছি। বর্ডার পার হয়ে হিমালয়ে চড়া শুরু করব।
শুধু তুমি যদি ফোন করে ফিরে আসতে বল তাহলে চলে আসব। নইলে আর আসব না। আমার ফোন নাম্বার তোমার জানা আছে। ইচ্ছে হলে ফিরে আসতে বলতে পারো।
তুহিন
বিঃদ্রঃ বিড়ালরা কখনো বলে না, আমি তোমাকে ভালোবাসি। এরা চাটাচাটি করেই প্রেম প্রকাশ করে।


০৪
তুহিনের ব্যাপারটা জানার জন্য ফারহানা তার ছোটো ভাই আহাদকে পাঠালো তুহিনের বাসায়। তুহিনের ছোটভাই রাশেদ আর আহাদ একসাথে নটেরডেম কলেজে পড়ে। আহাদ বাসায় এসে জানালো ঘটনা সত্য। দুইদিন ধরে তুহিন বাসায় নাই।

০৫
-হ্যালো! আমি জানতাম তুমি ফোন করবা।
-কেমন আছো? আছো কই?
-ভালো আছি।এখন আছি টাঙ্গাইলের একটা গ্রামে। তবে হাটার কষ্টটা সহ্য হচ্ছে না।
-হেটে যাচ্ছো নাকি?
-কেনো চিঠিতে লিখি নাই যে হেটে যাচ্ছি?
-না।
তুহিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, আমি একটা চিঠিও ঠিকমত লিখতে পারি না।
-তাই ত দেখা যাচ্ছে। তোমার মত ছাগল আর দেখলাম না।
-ছাগল ডাকটা কি আদর করে দিলে নাকি ?
-ছাগল!! ফারহানা ফোন কেটে দিল।


০৬
তুহিনের এসএমএস-
ফারহানা, বগুড়া আছি। পাচদিন হল ঘরছাড়া। আমার পা শেষ। তাড়াতাড়ি ফোন করে ফিরে আসতে বলো আমাকে।

০৭
-হ্যালো! ফারহানা ফোন করলা তাহলে।
-হুমম
-ফিরে আসব?
-আসো!
- সিরিয়াস?
-সিরিয়াস
-মিঁউ মিঁউ মিঁউ
- এই সব বন্ধ রাখো।
-ওকে!আমি ফিরে আসছি।

০৮
ফিরে আসার পরের দিন। তুহিন এসএমএস করেছে
-আমি তোমাকে নিয়ে কোথাও যাব। এইটা হবে আমাদের প্রথম অফিসিয়াল ডেটিং!

তুহিন ফারহানাকে নিয়ে সিনেমা দেখতে গিয়েছে সিনে কমপ্লেক্সে। বিদেশী ছবি। পর্দায় হেভী মারামারি চলছে। সাঊন্ডে পুরা হল কেপে কেপে ঊঠছে।ফারহানাকে পাশে নিয়ে বসে আছে বলেই হয়ত সিনেমটা এত চমৎকার লাগছে। একটা রোমান্টিক দৃশ্যের এক পর্যায়ে তুহিন পাশে বসে থাকা ফারহানার কানের লতিতে একটা চুমু দিল।
ফারহানা সাথে সাথে ঘুরে তুহিনের দিকে তাকাল।
-আমরা কি প্রেম করছি?
-হ্যা।
-ঠিক আছে। করতে পারি। আমার শুধু একটা শর্ত আছে।
-কি শর্ত?
- তুমি মিথ্যা বলবে না আমার সাথে আর কোনো দিন।
- আমি কবে তোমার সাথে মিথ্যে বলছি?
ফারহানা কিছু বলে না। তুহিন আবার বলে, আমি কবে তোমার সাথে মিথ্যে বলছি?
-তুমি যেদিন আমাকে বলছো টাঙ্গাইল আছো, সেদিন বিকালে আহাদ তোমাকে আরামবাগের একটা মেসের বারান্দায় দেখে আসছে। আহাদের কোন একটা বন্ধু অই ফ্লোরেই থাকে।
তুহিন কিছুক্ষন চুপ করে থাকল। এরপর বলল, ঠিক আছে। আমি আর কোনদিন মিথ্যে বলব না।
তুহিন সিনেমা দেখতে থাকে। এইবার আর সিনেমটা ভালো লাগে না।

চাকুরীর ইন্টারভিউ দেবার তরিকা

ধরেন আপনি বন্ধুর বাসায় গিয়েছেন। দোস্ত বাসায় নাই, একটু পর আসবে ।বন্ধুর বাসার বারান্দায় দুইটা কুত্তার বাচ্চা। একটা দেখতে সাদা বেশ সুন্দর, আরেকটা বাদামী, দেখতে খারাপ না। আপনি বারান্দায় গেলেন। বাদামীটা দৌড়ে এলো আপনার কাছে। পায়ের কাছে এসে ঘষাঘষি করতে লাগল। লেজ নাড়িয়ে নাড়িয়ে আপনার সাথে খেলা শুরু করেছে। সাদা কুত্তার বাচ্চাটা কেন জানি গম্ভীর হয়ে বসে আছে। খুব একটা নড়া-চড়া করছে না। আপনার মনে ইচ্ছে হতে লাগল একটা কুত্তার বাচ্চা পালা শুরু করলে খারাপ হত না।
আপনার দোস্ত আসল এই সময়। আড্ডা দিচ্ছেন।কথাবার্তার এক পর্যায়ে সে আপনাকে জানাল একটা কুত্তার বাচ্চা যদি আপনি নিয়ে যান তবে ভালো হয়। সে আর আগ্রহ পাচ্ছে না কুত্তা পালতে।
আপনি কোন বাচ্চাটা নিবেন??? সম্ভাবনা নব্বইয়ের বেশি বাদামী বাচ্চাটা, যেটা আপনাকে দেখে খুশিতে লেজ নাড়তে শুরু করেছে সেইটাই।



আমি একবার একটা গার্মেন্টসে ইন্টারভিউ দিতে গেলাম। সেখানে একটা waste water treatment plant তৈরী হবে। আমার থিসিস ছিল water treatment এর ওপর। তাই খুব আগ্রহ নিয়ে গেলাম ইন্টারভিউ দিতে। গারমেন্টস এর মালিক ইন্টারভিউ নিচ্ছে। ইন্টারভিউ দেবার জন্য বাইরের একটা রুমে যারা বসে আছি তারা সবাই আমার ক্লাসমেট। আড্ডা দিচ্ছি অনেকটা। এমন সময় বোমা ফাটলো। এক দোশ্ত বের হয়ে এসে বলে হারামজাদা ত মাত্র ছয়হাজার টাকা অফার করেছে। সে না করে দিয়ে এসেছে।
এরপরের জন বের হয়ে এসে বলল আরো ভয়াবহ কথা। ছ হাজার শুনে সে যখন বলেছে আরেকটু বেশি দিলে বিবেচনা করতে পারে, তখন গার্মেন্টস মালিক উত্তর দিয়েছে এর বেশি দেয়া সম্ভব না। তবে একজন মেয়ে এসিস্ট্যান্ট দেয়া যেতে পারে। এই কথা বলার পর আবার মুখ টিপে হেসে বলেছে যে বুঝার সে এতেই বুঝবে।
আমি মাথা ঘুরিয়ে অফিসের দিকে তাকালাম। এর আগে খুব একটা মনযোগ দিয়ে তাকাইনি। এবার মেয়েদের দিকে তাকালাম। চারজন খুব সুন্দর মেয়ে আছে অফিসে। তাহলে ব্যাপার এই! শালা লুইচ্চার চূড়ান্ত। সাথে সাথে অফিস থেকে বের হয়ে চলে যাওয়া উচিত ছিল। গেলাম না। যখন অফিসে এসেছি তখন একটু কথা বলেই যাই। তখন ত আর জানি না,এই লোকটার সাথে কথা না বললে আমার ইন্টারভিউ দেবার তরিকাটাই জানা হত না।

একসময় গার্মেন্টস মালিকের রূমে আমার ডাক আসে। আমি খুব বিরক্তি নিয়ে ঢুকি। আমাকেও ছয় হাজার টাকা আর assistant এর কথা বলা হল। আমি বিরক্তি চেপে কোনরকমে বলি আগামী মাসে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। তখন যদি আমি চাকুরি না পেয়ে থাকি তবে এটা করব।
আরো অনেক কথাবার্তা হলো। শেষের দিকে লোকটা আমার জীবনের শোনা সবচে মূল্যবান কথাগুলার একটা কথা বলল, আমার হাসি খুশি মুখ দেখতে ভালো লাগে।


এই ইন্টারভিউ দেবার পর আর যত ইন্টারভিউ দিয়েছি আমার চাকুরি হয়েছে।আমার বন্ধুদের কয়েকজন যখন জব না পেয়ে হতাশ, তখন আমি শুধু ভালো লাগে না বলে চাকুরি পাল্টাতে পারি।

কারন আর কিছুই না। ইন্টারভিউ বোর্ডে কোন প্রশ্ন না পারলেও আমি হাসি। সিরিয়াস মুখে ইন্টারভিউ দেই না। আমি প্রথমে বলা সেই বাদামী কুত্তাটার মত আচরন করার চেষ্টা করি। আমার চেয়ে যোগ্যরাও জব পায় না, মামু চাচা না থাকার পরও আমি পাই। কারন যারা ইন্টারভিউ নিচ্ছেন তারা হাসিখুশি মুখ যোগ্যতার চেয়েও বেশি পছন্দ করেন।

আবার কাটাকাটি- ব্রেক আপ- কপাল ভালো বাংলায় জন্মাইছি

আবার ঝামেলা হল। কাটাকাটি হয়ে গেল। যারা আমাকে চিনে তারা আর আগ্রহ দেখাবে না, শুনতেও চাইবে না কেন ঝামেলা হল।
এইবার ...প্রথমবার বলতে গেলে আমি ব্রেক-আপের সময় গালিগালাজের সম্মুখীন হলাম। কতজনই ত এলো গেলো। সবসময় আমার উদ্দেশ্য মেয়েদের শেষ কথা থাকে "তুমি ডাক্তার দেখাও।" ইসের ডাক্তার না। :P মনের ডাক্তার। এই কথাটা বলার সময় মেয়েটার চোখে থাকে গভীর সমবেদনা। রাস্তার পাশের একটা কুকুর যখন কোন একটা গাড়ির নিচে পড়ে তার দুই বা এক পা হারিয়ে ফেলে তখন এই রকম বেদনা দেখা যায় পথচারীদের মুখে। তোমার জন্য আমি বেদনা অনুভব করছি। কিন্তু তোমাকে ত নিজের করা সম্ভব না। এই পথচারীরা খুজে চারপা ভালো এই রকম একটা কুকুর।

এইবার ব্রেক-আপের সময় আশা করে আছি বলবে তুমি ডাক্তার দেখাও, তা না তার বদলে বলে দিল তুমি নিষিদ্ধ পল্লীতে চলে যাও। সভ্য সমাজে তোমাকে আর মানাচ্ছে না।
নিজকে সান্ত্বনা দেই এই ভেবে ভেবে যে তার এত তেজ দেখানোর কারন সে সাইকোলজি কিছু বুঝে না। ভূগোল পড়তে পড়তে মাথা গেছে। তাছাড়া, ঢাকা ইউনিভার্সিটির মেয়েদের বিড়াল বেশ বড় থাকে। আমি তার বিড়াল মারতে পারি নাই।

কিন্তু কথা তা না, কথা হল গিয়ে বাংলায় জন্ম নিছি।

আমার মানসিক সমস্যা হল কোন কিছুই লম্বা সময় ধরে পছন্দ হয় না। আর কিছুতেই মাথা আউলায় না। যারা প্রেম করেন তারা স্বীকার করবেন মাথা কিছুটা না আউলালে প্রেম করা যায় না। কোন একজন নারীর ভালোবাসা পাওয়া বা না পাওয়ার চেয়ে মানব জীবন অনেক বড়। আমার মাথায় পাথর আছে কিনা জানি না, কিন্তু এই কথাটা ত আমার মাথার ভিতর খোদাই করা আছে।
পাঠকের কি ধারনা হচ্ছে আমি ভ্রমর টাইপ? আমি বিনয়ের সাথেই বলি আমি তা না। আমি শুধু একবারই কোন একটা মেয়ের জন্য এগিয়ে গিয়েছিলাম। আর খোদা সাক্ষী সেই মেয়ে যদি রাজি হত, কিছুদেনের ভিতর আমি আগ্রহ হারিয়ে ফেলতাম। :P

কিন্তু কথা তা না, কথা হল গিয়ে বাংলায় জন্ম নিছি।

বাংলায় জন্ম নেয়ার সুবিধা হল এই মানসিক সমস্যা থাকার পরও আমি বিয়ে করতে পারব। আমার বঊ আমার সাথে মানিয়ে নেবার চেষ্টা করবে। যেহেতু আমি পুরুষ তাই ভয়ের কিছু নাই। এই বাংলায় আমাকে বিয়ে করার মেয়ে পাওয়া যাবে।

আমি বাংলায় জন্ম নিছি। আমি বেচে গেছি। কিন্তু যে মেয়েরা বাংলায় জন্ম নিল... তাদের জন্য আমার সহমর্মিতা। আহারে!

রবীন্দ্রনাথের ঘরে বাইরে উপন্যাসের কিছু উক্তি

কয়েকদিন ধরে ঘরে বাইরে উপন্যাসটা পড়ছি। সেখান থেকেই কিছু অংশ তুলে দিলাম।
উপন্যাসে চরিত্রের সংখ্যা কম। তিনজন। বিমলা-তার স্বামী নিখিলেশ। লিখিলেশের দোস্ত সন্দীপ। নিখিলেশ রাজবংশের যুবক। অতি মাত্রায় শুদ্ধাচারী। বিমলা সাধারন ঘর থেকে এসেছে। দেখতেও সাধারন। নিখিলেশও সাধারন দেখতে। আর সন্দীপ স্বদেশী নেতা, কর্মবীর।

বিমল এর উক্তি-
রুপ যখন চোখের পাহারা এড়িয়ে লুকিয়ে অন্তরে দেখা দেয় সেই বুঝি ভালো। তখন সে ভক্তির অমরাবতীতে এসে দাঁড়ায়, সেখানে তাকে কোন সাজ করে আসতে হয় না। ( বিমল নিখিলেশের প্রেমে পড়ছে)


আমার নারীর হৃদয়, তার ভালোবাসা আপনিই পূজা করতে চায়। (প্রেম ঘনীভুত হচ্ছে)


তিনি প্রায় রোজ আমাকে একটি করে চিঠি লিখতেন। তার কথা অল্প, তার ভাষা সাদা, তার হাতের গোটা গোটা গোল অক্ষরগুলি যেন স্নিগ্ধ হয়ে আমার মুখের দিকে চেয়ে থাকত। (নিখিলেশের চিঠির কথা বলা হচ্ছে)


প্রেম যে স্বভাব বৈরাগী; সে যে পথের ধারে ধূলার পরে আপনার ফুল অজস্র ফুটিয়ে দেয়। সে ত বৈঠকখানার চীনের টবে আপনার ঐশ্বর্য মেলতে পারে না।


আমার মনে হত ভালো হবার একটা সীমা আছে। সেটা পেরিয়ে গেলে কেমন যেন তাতে পৌরুষের ব্যাঘাত হয়। (নিখিলেশের অতি ভালোমানুষির প্রতি বিমলার অবজ্ঞা)


আমার এক এক বার মনে হয় রূপের অভিমানের সু্যগ বিধাতা যদি মেয়েদের দেন তবে অন্য অনেক অভিমানের দুর্গতি থেকে তারা রক্ষা পায়।



নিখিলেশ-

কথা কি মুখের কথাতেই শেষ হয়? সমস্ত জীবনে কত কথা শেষ হয় না।


বিমল-

আমি সত্য কথা বলব। সেদিন আমার মনে হয়েছিল বিধাতা কেন আমাকে আশর্য সুন্দর করে গড়লেন না? কারো মন হরণ করার জন্য যে, তা নয়। কিন্তু রূপ যে একটা গৌরব। ( বিমলের সাথে সন্দীপের মাত্র দেখা হবে)


স্রোতের জন ঘোলা হলেও অনায়াসে তার ব্যবহার চলে। সন্দিপবাবুর সমস্তই এমনি দ্রুতবেগে চলে যে আর একজনের মুখে যা সইত তার ,উখে তাতে আপত্তি করবার ফাক পাওয়া যায় না। (সন্দীপের অতিমাত্রার জোস বিমলাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে)


নিখিলেশ

মনকে যখন মনে মনে যাচাই করতুম তখন অনেক দুঃখ কল্পনা করেছি। কখনো ভেবেছি দারিদ্রয়, কখনো ভেবেছি জেলখানা, কখনো অসম্মান, কখনো মৃত্যু। এমনকি কখনো বিমলের মৃত্যুর কথাও ভাবতে চেষ্টা করেছি। এ সমস্তই নমস্কার করে মাথায় করে নেব এ কথা যখন বলেছি বোধ হয় মিথ্যা বলি নি।কেবল একটা কথা কোনদিন কল্পনাও করতে পারি নি। আজ সেই কথাটা নিয়ে সমস্ত দিন বসে বসে ভাবছি, এও কি সইবে? ( বিমলার আগ্রহ সন্দীপের প্রতি, নিখিলেশ সেটা বুঝতে পারছে)


ভালোবাসার ত মূল্য তাই, সে যে অযোগ্যতাকেও সফল করে তুলে। যোগ্যের জন্য পৃথিবীতে অনেক পুরস্কার আছে। অযোগ্যের জন্যই বিধাতা ভালোবাসাটুকু রেখেছেন। (নিখিলেশের নিজের অযোগ্যতার জবাবদিহি)


যদি দেখি এই বিশাল জীবন ব্যবস্থার মধ্যে আর কোথাও আমি খাপ কাইনে তা হলে বুঝব এতদিন যা নিয়ে ছিলাম সে কেবল ফাকি। সেই ফাকিতে কোনো দরকার নাই। সেদিন আসে ত ঝগড়া করব না, আস্তে আস্তে বিদায় হয়ে যাব। জোর – জবরদস্তি? কিসের জন্য! সত্যের সাথে কি জোর খাটে?


সন্দীপের উক্তি-

পুরুষেরা ভালোবাসে ধোয়াকে আর মেয়েরা ভালোবাসে বস্তুকে। সেই জন্যেই পুরুষ পূজা করতে ছুটে তার নিজের আইডিয়ার অবতারকে। আর মেয়েরা তাদের সমস্ত অর্ঘ্য এনে হাজির করে প্রবলের পায়ের তলায়। ( সন্দীপ জানে বিমলা তাকে ছাড়তে পারবে না)

নিখিলেশ-

জীবনের ট্রাজেডি এখানেই। সে ছোটো হয়ে হৃদয়ের এক তলায় লুকিয়ে থাকে। তারপর বড়কে এক মুহুর্তে কাত করে দেয়। মানুষ আপনাকে যা বলে জানে মানুষ তা নয়। সেই জন্যেই এত অঘটন ঘটে।

বিমল প্রানের আবেগে ভরা। সেই জন্যেই এই ন’বছরের মধ্যে এক মুহুর্তের জন্য সে আমার কাছে পুরনো হয় নি। কিন্তু আমার ভিতর যদি কিছু থাকে সে কেবল বোবা গভীরতা। সে ত কলধ্বনিত বেগ নয়। আমি কেবল গ্রহন করতেই পারি। কিন্তু নাড়া দিতে পারি নে। আমার সংগ মানুষের পক্ষে উপবাসের মত। বিমল যে এতদিন কি দুর্ভিক্ষের মধ্যেই ছিল ওকে দেখে বুঝতে পারছি। দোষ দেব কাকে?
হায় রে
ভরা বাদর মাহ ভাদর
শুন্য মন্দির মোর।
( নিখিলেশ হার মেনে নিচ্ছে নিচ্ছে...)



একজন স্ত্রী লোকের মিলন-বিচ্ছেদের সুখ দুঃখ ছাড়িয়ে এ পৃথিবী অনেক দূর বিস্তৃত। বিপুল মানুষের জীবন। তারই মাঝে দাঁড়িয়ে তবেই যেন নিজের হাসি কান্নার পরিমাপ করি।
(পুরাপুরি হার মেনে নিয়েছে)

সন্দীপ-
পুরুষেরা যেখানে দুর্বল মেয়েরা সেখানে তাদের খুব ভালো করে চিনে, কিন্তু পুরুষেরা যেখানে খাটি পুরুষ মেয়েরা সেখানকার রহস্য ঠিক ভেদ করতে পারে না।।

বিমলা-
দেবী তার ভক্তের দিকে তাকিয়ে কি রকম যে মুগ্ধ হতে পারেন সেদিন অমূল্যের দিকে তাকিয়ে আমি তা বুঝতে পারলুম। ( অমূল্য - বিমলার ভক্ত, স্বদেশ কর্মী)


নিখিলেশ
দাম্পত্য আমার ভিতরের জিনিস সে ত কেবল আমার গৃহস্থ-আশ্রম বা সংসারযাত্রা নয়।সে আমার জীবনের বিকাশ। সেই জন্যেই বাইরের দিক থেকে ওর ওপর জোর দিতে পারলাম না। দিতে গেলেই মনে হয় আমার দেবতাকে অপমান করছি। ( নিখিলেশ বিমলার প্রতি কোন রকম জোর করছে না)

বিধাতা আমাদের জীবন- ছবির দাগ একটু ঝাপসা করেই টেনে দেন; আমরা নিজের হাতে সেটাকে কিছু-কিছু বদলে মুছে, পুরিয়ে দিয়ে নিজের মনের মত করে নিজের জীবনটা সৃষ্টি করব এই তার অভিপ্রায়। সৃষ্টিকর্তার ইশারা নিয়ে নিজের জীবনটা নিজে সৃষ্টি করে তুলব, একটা বড়ো আইডিয়াকে আমার সমস্তের মধ্য দিয়ে ব্যক্ত করে দেখাব এই বেদনা বরাবর আমার মনে আছে।



এই উক্তিগুলোই উপন্যাসের প্রান। আমি সেই প্রানের একটু আভাস মাত্র দিলাম। মূল উপন্যাসটার কাহিনী তেমন একটা বললাম না। এটা ইচ্ছে করেই করা হল। ব্লগাররা যেন উপন্যাসটা পড়ার জন্য আগ্রহবোধ করেনতার জন্যই এটা করা।

জগতের নিদারুন ভালো ছেলেরা ......

তোমরা ছেলেরা এত বদ কেন? বুড়ি আমাকে প্রশ্ন করেছিল একবার। পরে আরো কয়েকজন মেয়ে আমাকে এই প্রশ্ন করেছে। তার বা তাদের প্রেমিকরা একেকজন বদের হাড্ডি। বুড়ি আমাকে বলেছিল সে আর কোন ছেলেকে বিশ্বাস করে না। সব ছেলেই বদ।
কেন মেয়েরা ভাবে ছেলেগুলা বদ?
আমি জানি বদ ছেলের সংখ্যা আসলে কম। ভালো ছেলের সংখ্যা বেশী। এটা শুধুমাত্র ছেলেদের জন্য না, মেয়েদের ক্ষেত্রেও সুন্দর মনের মানুষ বেশী। ভালো ছেলেদের বেশীরভাগকেই দেখেছি কোন মেয়ের পিছে ঘুরাঘুরি নাই। বেশীর ভাগ ভাল ছেলেই ত মনে মনে একজন চমৎকার মেয়ের সংগ কামনা করে। তাহলে মেয়েরা কেন ভাল ছেলেদের দেখা পায় না?

আমার যা মনে হল, ভালো ছেলেরা আসলে আকর্ষনীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী নয়। এরা হয় খুবই সাদা-মাটা। এদের আচরন খুব predictable । এরা হঠাৎ করে কাউকে না জানিয়ে বন্ধুদের সাথে সেইন্ট-মার্টিনে চলে যাবে না। ভালো ছেলেরা উদ্দাম নয়। এরা পরিমিত বোধের অধিকারী। সব মিলিয়ে ভাল ছেলেরা এত সাধারন এত রঙহীন যে মেয়েরা কিছুতেই আগ্রহী হয় না । আবার “বদ” গুলো খুব ভালো করে জানে কিভাবে মেয়ে পটাতে হয়। কিভাবে তাদের মনের দরজার চাবি পাওয়া যায়। যখন কোন একটা মেয়ে কোন ছেলের প্রেমে পড়ে তখন সম্ভাবনা প্রবল যে ছেলেটা খুব ভাল করে জানে কিভাবে মেয়েদের আকর্ষন করতে হয়। বেচারা ভাল ছেলেগুলা ভাল সেজে থাকতে গিয়ে কোনদিন জানতেই পারে না কী বললে মেয়েরা খুশী হবে।

আমার একান্ত ব্যক্তিগত একটা ধারনা আছে। জীব জগতে mating season এর কথা ভাবুন। যেকোন প্রানীর ক্ষেত্রেই ছেলেটা ঘুরঘুর করবে মেয়েটার চারপাশে। বেশীর ভাগ সময়ই পুরুষ প্রানীটার সুযোগ থাকবে ( অনেক্ষেত্রে বাধ্য হবে) একাধিক mating এর। ছেলেটা polygamous. মেয়ে প্রানীটা যখন কোন একটা পুরুষ প্রানীকে নিষিক্ত করার সুযোগ দিবে তখন সে বিচার করবে কি কি বিষয়?
যদিও যে কোন male একই প্রজাতিক বৈশিষ্ট্য দিচ্ছে তবুও mating এর জন্য মেয়েটা বেছে নিবে ( যদি বাধ্য না হয়ে থাকে) সাইজে বড় কাউকে। এর পিছনে নানা কারন থাকতে পারে। শারীরিক সক্ষমতার ফলে মেয়েটা হয়ত আক্রমনকারী কারো হাত থেকে বাচতে পারবে সহজে...আরো নানান কারন। মূল বিষয়টা সেখানে নয়। mating করার জন্য স্ত্রী প্রানী শারীরিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করে আর অন্য কিছু তেমন একটা নয়। উদাহরন-স্বরুপ রাস্তার কুত্তাদের ভিতর যে কুত্তা সবচে বড় তার সন্তান সবচে বেশী। অথচ খেয়াল করলে এইরকম কুত্তা পাওয়া যাবে গরম পানিতে যার শরীরের কোন অংশ পুড়ে যায় নি। এই রকম বেশ চালাক চতুর একটা কুত্তার mating এর সুযোগ হয় নি। বড় হারামজাদাটা সবাইকে হটিয়ে দিয়েছে।

এখন আসি মানুষের ক্ষেত্রে। প্রেম জিনিসটা নিয়ে বহু জল ঘোলা হয়েছে। আমি বিস্তারিতত বলছি না। তবে আমার ধারনা সবাই একমত হবেন প্রেম বুদ্ধিভিত্তিক ব্যাপার না এটা বেশ স্বতঃ স্ফুর্ত একটা ব্যাপার। স্বতঃস্ফুর্ত ব্যাপার এটা যদি মেনে নেয়া হয় তাহলে আমি কি বলতে পারি এই ক্ষেত্রে প্রকৃতি সবচে বড় ভূমিকা পালন করছে? যদি নেচার এর দায়িত্ব নিয়ে থাকে তবে প্রানী জগতের যে সাধারন নিয়ম সেটা মানুষের ভিতর আছে। তাহলে মেয়েরা কোন ধরনের ছেলেদের প্রতি আগ্রহ বোধ করবে? আমার মনে হয় না আর বলার আছে।


একটা মেয়ে যখন বলে আমার সাথে শুধু বদ ছেলেগুলার দেখা হয় তখন আমার বলার ইচ্ছে হয় দোষ তোমারও কম নয়। যে ছেলেটা তোমার ক্লাসে চুপচাপ বসে থাকে শান্ত ভঙ্গিতে তার দিকে তুমি কখনো আগ্রহ নিয়ে তাকিয়েছো? সে একটা ভালো ছেলে হবে তার সম্ভাবনা বেশী। যে ছেলেটার খেলা দেখতে তুমি মাঠে গিয়ে বসেছিলে,অই ছেলেটা পঞ্চাশ রান করে ঠিক তোমার দিকে ব্যাট তুলে অভিবাদন করেছে আর তোমার লেগেছে ভালো, সেই ছেলেটা বদ হবে তার সম্ভাবনা বেশী। প্রকৃতি যদি তাকে সুন্দর করে তৈরী করে থাকে তাহলে সম্ভাবনা বেশী যে প্রকৃতি চাইবে সে যেন বেশী mate করতে পারে। শুধু ছেলেদের বদ না বলে মেয়েদের নিজের দিকে তাকানো উচিত। তাকানো উচিত তার চারপাশের অতি নিরীহ দর্শন সাদা-মাটা ছেলেদের দিকে। এরাই ভালো ছেলে। এদেরই মেয়েরা খুজে কিন্তু পায় না।

একটি ছোট-ছেলের পকেটে হাত ঢুকিয়ে হাটা

আমাদের হলে রঙ করা হবে।বাইরের দেয়াল রঙ করা হলো। প্রভোস্ট স্যারদের মনে হয় যথেষ্ঠ আয় হচ্ছে না। তাই ঠিক করা হল ছাত্রদের রুমও রঙ করা হবে। রঙ বলা ঠিক হচ্ছে না। চুনকাম করা হবে।

এক সকালে কন্ট্রাকটর এসে বলল রুমের মালপত্র সরিয়ে নিতে। চুনকাম করা হবে।বাঙ্গালী ফ্রি পেলে কেরোসিন খায় আর এ ত চুনকাম। চুন যদিও খেতে দিবে না কিন্তু দেয়ালে লাগিয়ে দিবে বিনা খরচায়। পহেলা বৈশাখে পান্তা ইলিশ খাওয়া মিস হয় না কোনো বছর। সুতরাং আমি বড় গলা করে বলতেই পারি আমি মনে-প্রানের শুধু মনেই বাঙ্গালী( প্রানে বাঙ্গালী কিনা সেটা নিশ্চিত না)।
যা হোক ফ্রি পাবার লোভে আমি সাথে সাথে রাজি। কন্ট্রাকটরের কথা-মত সমস্ত মালপত্র বারান্দায় সরিয়ে নিয়ে গেলাম।

সারাদিন চুনকাম করা হল। এইসময়টা আমাকে বসে থাকতে হল বারান্দায়। চুনকামের শেষে বুঝলাম কন্ট্রাকটর নিজেও বাঙ্গালী। সত্যি বলতে কি আমার চেয়ে বেশী বাঙ্গালী। হারামজাদা চুনের সাথে কোন ধরনের আঠা ব্যবহার করে নি। হাত দিতেই সমস্ত চুন উঠে চলে আসে।
(পাঠকদের ভিলেনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হল। কন্ট্রাকটরই কাহিনীর ভিলেন। থাক আসল কথায় চলে আসি। )
মালপত্র রুমে ফেরত নেবার সময় দেখি ফ্লোর চুনে সয়লাব। সময়মত তিনজন বয়স্কা মহিলা চলে এল। এরা চুনকামের সময় দেয়াল পরিষ্কার করে দিয়েছিল। কন্ট্রাকটর দেখলাম বাঙ্গালী হতে জার্মান হিটলারে রুপান্তরিত। তার কড়া হুকুমে মহিলারা ঘষে ফ্লোর পরিষ্কার করে দিল।
কন্ট্রাকটর যে বাঙ্গালী এবং আমার চেয়ে বড় বাঙ্গালী তার প্রমান পেলাম একটুপর। তিনজন মহিলার ভিতর নেত্রী গোছের একজন এগিয়ে এসে আমাদের হড়বড় করে যা বলল তার সারমর্ম হল এইযে তাদের সাথে কন্ট্রাকটরের চুক্তি হয়েছে দেয়াল পরিষ্কার করা। ফ্লোর পরিষ্কার করার কোন কথা হয় নি। সুতরাং এই অতিরিক্ত কাজের জন্য আমাদের টাকা দিতে হবে।

আমার বাঙ্গালী মন খচ করে উঠল। টাকা দিব কেন?

আমি মিন মিন করে একটু প্রতিবাদ করতেই মহিলার মুখের ভাব, মুখের ভাষা এবং শারীরিক ভঙ্গি পোড় খাওয়া যোদ্ধার মত হয়ে উঠল।( আমাজন যোদ্ধা আর কি। একই নারী- একই অঙ্গে কত রূপ)।
আমি সারাদিন বারান্দায় বসা। রুমের অবস্থা খুব খারাপ। চুন সব উঠে আসছে সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ। এখন আবার পকেট থেকে টাকা বের করতে হবে। আমার মন তখন ফ্রি লোভী বাঙ্গালী থেকে কূটবুদ্ধির ব্রিটিশ মনে রুপান্তরিত। আমি মনে মনে মহিলাটিকে একটা দুই অক্ষরের গালি দিলাম, যেটার শুরু ম দিয়ে আর শেষ গ দিয়ে।

আমি হারামজাদাকে খুজতে লাগলাম । কন্ট্রাকটর হারামজাদাটা কই? দেখি শালা আশে-পাশে কোথাও নাই। সে বড় ব্রিটিশ। আমি তখন কিছুটা বিভ্রান্ত। কন্ট্রাকটর ব্যাটা দেখি সর্বক্ষেত্রে আমার চেয়ে এককাঠি সরেস। হিটলারের মত হুকুম দিয়ে টাকা দেয়ার সময় পালিয়েছে।



এদিকে আমাজন যোদ্ধারা আমাকে ঘিরে ধরেছে। তাদের টাকা দিতেই হবে। দরিদ্র এই নারীদের টাকার দাবী অতি সামান্য। এটা জেনেও আমি অস্বীকারের চেষ্টা করছি।কেননা আমি প্রতারিত। যা ফ্রি পাবার সেটা আমি পেয়েছি। কিন্তু চুন ত না খেতে পারলাম না সেটা দেয়ালে আটকিয়ে থাকছে।

আমি কূটবুদ্ধির ব্রিটিশ থেকে রুপান্তরিত হয়ে জার্মান সেনাপতির মত গর্জনের চেষ্টা করলাম। কিন্তু মিত্রপক্ষের প্রবল বিক্রমে আমি পরাজিত। তাদের টাকা দিয়ে দিলাম। আমাজন নেত্রী একটা হাসি দিল টাকা পেয়ে। দেখলাম যোদ্ধাকে হাসলে খারাপ লাগে না দেখতে।

আমার মুড মেজাজ খারাপ। সন্ধ্যার দিকে অফ হওয়া মুড অন করতে বের হলাম। রাস্তায় বের হয়েই দেখি আমার সহপাঠি আর সহপাঠিনী হাত ধরা-ধরি করে হাটছে। আমার মনে হল এরা কত সুখী। আমার কেন সুখ নাই? থুতু ফেললাম রাস্তার সাইডে। ( নজর যেন না লাগে সেজন্য থুতু মারা। আমার নানী আমার মুখে হাল্কা থুতু দিত। এতে নজর বা মুখ লাগে না। আমিও তাদের মুখেই থুতু মারব ভেবেছিলাম। কিন্তু ভেবে দেখলাম দুনিয়ার কোন শালার ভাল করতে নাই।রাস্তার পাশেই ফেলি থুতু।)

ইতস্তত ক্যাম্পাসে ঘুরছি মুখ কালো করে। হঠাৎ দেখি মিত্রপক্ষ বা আমাজনের যোদ্ধারা। সাথে একজন অল্পবয়স্ক মেয়ে( পচিশের মত হবে, আমার বয়স তখন পচিশ হয় নি)। আরেকটা ছোট ছেলে। ছেলেটার গায়ে জামা নাই। একটা প্যান্ট পড়া। প্যান্টটা আবার সাইজে বড়। তাই কোমড়ে বেল্টের বদলে একটা দড়ি বাধা। দুই হাত পকেটে ঢুকিয়ে ছেলেটা গম্ভীর মুখে হাটছে যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরাট প্রফেসর। অংকের কোন জটিল সমস্যা নিয়ে চিন্তা করছে। (কোন স্যারকে দেখে স্টাইলটা শিখেছে। প্রমথ বাবু ত এমনি এমনি বলেননি ব্যাধি সংক্রামক,স্বাস্থ্য নয়।)

পিছনের চারজন মহিলাই ছেলেটার কাজকর্মে মুখ টিপে টিপে হাসছে। ছেলেটা পিছনে তাকালেই তাদের হাসি বন্ধ। আমি লক্ষ্য করে দেখি তিনজন বয়স্কা মহিলাকে আর আমাজন সোলজার বা মিত্রপক্ষের হিংস্র সৈন্য মনে হচ্ছে না। বরং মনে হচ্ছে স্বর্গের চার দেবী নেমে এসেছে মর্ত্যে আর ছোট ছেলেটা একটা কিউপিড। আমি অবাক হয়ে দেখছি। মুগ্ধ হয়ে দেখছি। এদের হাসিতে যে মাধুর্য সেটা আমার ত নয়ই, আমার সহপাঠিনীর মুখেও ছিল না। আমি এবার আর রাস্তার পাশে থুতু ফেললাম না।স্বর্গের কারোর উপর কখনো নজর পড়ে না।

সেদিন আমি সত্যিকার অর্থে প্রথমবারের মত বুঝতে পেরেছি ভালো ভাবে বেচে থাকার জন্য ইউনিভার্সিটির ডিগ্রী লাগে না বা ভালো কোন জায়গায় চাকুরী লাগে না। যেটা লাগে সেটা হল ভালোবাসা। চারপাশে সেটা ছড়ানো অফুরান। অন্ধ আমরা সেটা দেখতে পাই না। তাই এত পরিশ্রম এত কষ্ট। এত মেধা থাকার পরও ভালোভাবে বাচতে পারি না।

চাকা ঘুরানোর দিনগুলি

প্রথমেই প্রাসঙ্গিক একটি বহু পুরানো ঈসপের গল্প বলে নেই। এক কৃষকের গরু হারিয়েছে। সে সারা গ্রাম খুজে খুজে হয়রান। কোথাও খুজে পাওয়া গেল না। দিনশেষে গ্রামের প্রান্তে সে হাটু গেড়ে বসে বলল " খোদা ! যে আমার গরূটা চুরি করেছে তাকে শুধু আমার সামনে এনে দাও। আমি ছাগল কোরবানী দিব তোমার নামে।"
তার প্রার্থনা শেষ না হতেই পাশের ঝোপ থেকে এক সিংহ বের হয়ে এল। আবার কৃষক প্রার্থনা শুরু করল। খোদা! সিংহ সরাও। দুইটা খাসী কোরবানী দিব।
আমি বছর দুয়েক ধরে লক্ষ্য করছি খোদা আমার যে কোন প্রার্থনায় খুব ভালো সাড়া দেন। কিন্তু সবসমই আমার অবস্থা ঈসপের কৃষকের মত হয়। আবার উলটা প্রার্থনা করতে হয়।

ঘটনা-১
তখন ৪-২ তে আছি। কয়েকসপ্তাহ পর ছাত্র-জীবনের ইতি হবে। থিসিস , চারটা টিউশনী মিলিয়ে আমি মোটামুটি বিধ্বস্ত। খোদার কাছে প্রার্থনা করলাম খোদা! একটা গজব দাও ! যেন বুয়েট ছুটি হয়ে যায় সপ্তাহ খানেকের জন্য। আমি বাড়ি ঘুরে আসি। emotionally recharged হই।
প্রার্থনায় ফল হল সপ্তাহ খানেকের ভিতর। ছাত্র-বিক্ষোভ-জলপাই ! সবাই জানেন কি হয়েছিল। হল খালি করতে হল। আমি হাসিমুখে বাড়ি চলে এলাম। বন্ধুরা ছাড়া কি আর ছুটি জমে? তাই আমার ছুটিটাকে আনন্দময় করতে ঈশ্বর আমার সমস্ত বন্ধুদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও বন্ধ করে দিলেন। আমি খুশী।
বিছানায় গড়াগড়ি করে। কিছুই না করে অনেকদিন গেল। আস্তে আস্তে দেখি গড়াগড়ি করতে আর ভালো লাগে না। দোস্তদের সাথে প্রতিদিন আড্ডা হয়। তবুও ভালো লাগে না। মাসখানেক পর আমি বললাম খোদা! এই ছুটি আর সহ্য হচ্ছে না। তুমি বুয়েট খোলার ব্যাবস্থা কর।
ঘটনা-২ হুমায়ুন আহমেদের একটা উপন্যাস পড়ে বেশ ভালো লাগল। তেতুল বনে জোছনা। নায়ক ডাক্তার। তার গ্রামে পোস্টিং। সেই গ্রামে ধীরে ধীরে সে পরিবর্তন নিয়ে আসে। পড়ে আমার মনে হল আহা! পাস করার পর যদি আমার দূরে কোথাও পোস্টিং হত ! সেখানে নিরিবিলিতে একান্তে না জানি নিজের কোন এক অচেনা চেহারা বের হয়ে আসত। আমি একটা নৌকা কিনব। একটা কুত্তা পালব। কোন বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারি না। গীটার বা একটা কিছু শিখব। আমি খোদার কাছে চাইলাম এই উপন্যাসটার নায়কের মতই কিছু একটা হোক আমার জীবনে।
পাস করার পর বছর ঘুরল না। খোদা সম্প্রতি আমার প্রার্থনা শুনেছেন। একটি সরকারি চাকুরী হয়েছে। পোস্টিং লক্ষীপুর। খোডা আয়োজন পুরা করে এনেছেন। কিন্তু এখন ঢাকা ছেড়ে যেতে আমার মন চাচ্ছে না। বাবা ত খুবই খুশী সরকারি চাকুরী পাওয়ায়। এখন আমি যে চাকুরী করি সেটা বাংলাদেশের অন্যতম আরামের একটা চাকুরী। কিন্তু সেটা সরকারি নয়। আমি ইচ্ছে বাইরে থেকে মাস্টার্স শেষ করে আসব। অনেক পড়া এখনো বাকি। এদিকে যারা নিয়োগ পেয়েছে সরকারি চাকুরিটাতে তাদের ভিতর আমার বয়স খুবই কম এবং মেধা তালিকায় আমার স্থান একেবারে প্রথম দিকে। সবমিলিয়ে বাবা-মার আশা আমি নিদেনপক্ষে DG না হয়ে অবসরে যাব না। আর আমি ভাবি GOD works in very mysterious way.
আমি যা চেয়েছিলাম সেটা পাচ্ছি। আমার বাবা-মা যা চেয়েছিলেন সেটাও পাচ্ছি। কিন্তু খোদা ছোট্ট একটা খেলা দিয়ে রাখলেন। খোদা আমাকে যেন বলছেন তুমি যা চাইছো সেটা দিচ্ছি কিন্তু দেখি তুমি সেটা নিতে পারো কিনা?

রবীন্দ্রনাথের কাছে আমার ঋন

আমার সহপাঠিনীর নাম নানী (এই নামকরন আমি করি নাই। ক্লাসের সব ছেলে তাকে এই নামে ডাকে।) নানী আমাকে শুয়োরের বাচ্চা বলে গালি দিয়েছে। তার ধারনা আমি তাকে সেক্স এর অফার দিয়েছি। আর আমার ধারনা আমি তার সাথে কৌতুক করেছি।
খুলেই বলি। অরকুটে নিজের সম্পর্কে নানী লিখেছে সে একটা তরমুজ।(খুব একটা মিথ্যে লিখেনি। আসলেই বেশ মোটা-সোটা সে) । আমি তার প্রোফাইল পড়ে বেশ হাসলাম। তার স্ক্র্যাপবুকে লিখে আসলাম "তরমুজ খেতে ইচ্ছে করে।" শুধু মজা করার জন্যই লিখেছি। অতকিছু ভেবে দেখিনি। সে উত্তর দিল "দাতের সংখ্যা বাড়াও।" (এই উত্তর পেয়ে আমি ভাবলাম সেও এটাকে মজা হিসাবেই নিয়েছে) আমি বললাম, "দাত যা আছে তাতেই চলবে। ভালো করে পরিষ্কার করে নিব। তরমুজ লজ্জায় লাল হলেই ভাল।" এই কথাটি আমার কাছে তেমন আপত্তিকর কিছু মনে হয়নি। কিন্তু নানীর ধারনা হয়েছে এই কথাগুলো দিয়ে আমি যৌন-সঙ্গমের প্রস্তাব দিয়েছি।
এর উত্তর সে বলল শুয়োরের বাচ্চা।
আধাধন্টা পর আবার বলল বন্ধু তুমি একজন ডাক্তার দেখাও।

আমার মেজাজ খারাপ। প্রথমত কোন ক্লাস-মেটকে আমি সেক্সের অফার করতে পারি এইরকমের একটা reputation আমার তৈরী হয়েছে। নাহলে সে এটা ভাবত না। দ্বিতীয়ত তার সাথে করা রসিকতাকে সে ভেবেছে তার সাথে আমি "ভাব" জমাতে চাচ্ছি। তৃতীয়ত- আমি যদি সেক্স করতে আগ্রহী হতাম। নানীর মত দেখতে কারো কাছেও পাত্তা পাব না-এইটা উপলব্ধি করে মেজাজ খারাপ।

আমি শুয়োরের বাচ্চা গালি শুনে ঝিম মেরে বসে থাকলাম। ভাবলাম আমি কতটুকু শুয়োরের বাচ্চা সেটা দেখিয়ে দেই। তার ফোন নাম্বার যোগাড় করা হল। অরকুটে অন্তত বিশটার মত প্রোফাইল খুললাম বেনামে। ক্লাসের দোস্তদের তার প্রোফাইলের address দিলাম। সবকিছু প্রস্তুত করা হল। গালিগালাজ গুলো ঝালিয়ে নেয়া হল। আমি যথার্থ শুয়োরের বাচ্চার মতই আয়োজন সম্পন্ন করলাম তাকে বেইজ্জত করার জন্য।

এই আয়োজনের ফাকে ফাকেই আবার একটু খারাপ লাগছিল কি করতে যাচ্ছি সেটা ভেবে। নানী আমাকে যা বলেছে , ঠিক বলছে নাকি বলে নাই তার চেয়ে বড় কথা আমি কাজটা ঠিক করতে যাচ্ছি না। কিন্তু রেগে গেলে এইসব বোধ কাজ করে না। আয়োজনের তোড়জোড় চলছে। সাথে অন্যান্য কাজও করছি স্বাভাবিকভাবে। প্রতিশোধের সেই সময় রবীন্দ্রনাথে ছিন্নপত্র পড়লাম।

উদ্ধৃতি দিতে পারছি না যেহেতু বইটা আমার কাছে এই মুহুর্তে নাই। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন যখন কোন ভাল মানুষের হৃদয় ভাঙ্গে , ভাঙ্গা অংশ দিয়ে বের হয়ে আসে মহৎ কিছু গুন। ফলে যে তাকে কষ্ট দিয়েছে তাকে সে ক্ষমা করে দিতে পারে। তার উদার্য্য বাড়ে, সহনশীলতা ইত্যাদি ইত্যাদি। ফলে প্রতিবার তার হৃদয় ভাঙ্গলে সে আরো উন্নত হয়। আর যখন কোন বর্বরের হৃদয়ভাঙ্গে সেখান দিয়ে বের হয়ে আসে পূঁজ আর নোংরা সব বস্তু। সে নিজে ত কষ্ট পাইই, তার চারপাশের মানুষের সে বিরক্ত করে ফেলে।
পড়ে আমার মনে হল, আমি নিজেও কষ্ট পাচ্ছি আবার সমস্ত দোস্তদের উত্তেজিত করে তাদেরও বাজে একটা কাজে জড়িয়ে ফেলছি। রবীন্দ্রনাথ ত আমার মত মানুষদের ঘৃনা করে এসেছেন সারা জীবন। আমি তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমি ভাল না হতে পারি, ভাল মানুষ হবার অভিনয় ত করতে পারি। আমি এরপর নানীকে অপমান করার আর কোন চেষ্টা করিনি। অনেকপরে আমি বুঝতে পেরেছি সেইদিনের সিদ্ধান্তটা সঠিক ছিল। নানীকে অপমান করলে আমার লাভের চেয়ে ক্ষতি হত অনেক বেশী। বলাবাহুল্য এরপর রবীন্দ্রনাথের প্রতি আমার ভালবাসা আর শ্রদ্ধা বেড়ে গেছে বহুগুন।

ব্যথার পূজা হয়নি সমাপন.

সকালে বাসে আসছি। ইদানীং রাস্তা বেশ ফাকা থাকে। মনটা বেশ ফুরফুরে থাকে। রাস্তা ফাকা থাকায় জ্যাম নাই। চল্লিশ মিনিটেই যাত্রাবাড়ি থেকে মহাখালী অফিসে চলে আসতে পারি। বাসে সীটও পাই। ফলে মনটা খুব শরীফ থাকে। তবে আজকে সেটা আর থাকল না। জয়কালী মন্দিরের মোড়ে এসে একটা দৃশ্য দেখে মনটা খুব খারাপ হল। একজন তের-চৌদ্দ বছরের কিশোরী রাস্তার পাশে বসে আসে। তার হাতে সিরিঞ্জ। সে ড্রাগ নিচ্ছে। তার পাশে দুইটা বোতলও আছে। সেখানে কি তরল আছে সেটা খোদাই জানে। তবে সেটা পানি না বলেই মনে হচ্ছিল।

মেয়েটাকে দেখে খুবই মন খারাপ হল। প্রানের কি বিপুল অপচয়। এই বয়সে তার জীবন এমন হওয়ার কথা না। এই বয়সে তার শরীরে পরিবর্তন আসা শুরু করবে। সে ছেলেদের ব্যাপারে একটু একটু আগ্রহ বোধ করা শুরু করবে। তা না হয়ে, সে ড্রাগ নিচ্ছে। কি কাজ করে তার জীবিকা অর্জন হয়? কোথা থেকে সে ড্রাগের পয়সা পায়? আমার ত মনে হয়েছে সে হয় পতিতা বা সে পতিতা হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। পতিতা হিসাবে এই বয়সে তার চাহিদা (!) কতটুকু সেটা আমি জানি না। যে কয়টা টাকা সে দিনে অর্জন করে তার বড় অংশ ড্রাগের পিছে নষ্ট হচ্ছে। যদি তার মাথায় বুদ্ধি থাকে একটু, তবে হয়ত ড্রাগের ব্যবসাই শুরু করবে । ব্যবসায় উন্নতি করে সে একটু ভালো করে বাচতে পারবে। ( এই ব্যাপারেও আমার সন্দেহ আছে) । আর বুদ্ধি না থাকলে তার জীবন কাটবে পতিতা বৃত্তি করে।

যখন তাকে দেখি তখন আমার কানে হেডফোন। আমি রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনছি। কাকতালীয় ভাবে তখন কানে বাজছে -আমার সকল দুঃখের প্রদীপ জ্বেলে দিবস করব নিবেদন। এই গানটা আমার ছিল এতদিন। এখন জানলাম আমার চেয়ে অন্যদের অধিকার এই গানে বেশী। ... ব্যথার পূজা হয়নি সমাপন...

এক একটা প্রান পৃথিবীতে এসে এইভাবে তার সময় শেষ করে। এই বিশাল পৃথিবীর এত সৌন্দর্যের কিছুই যে সে দেখতে পাবে না। শুধু গ্লানি টেনে টেনে তার জীবন পার হবে। তার জীবনের ব্যর্থতার দায় কে নিবে?

একটু ভালো করে বাচব বলে

ম্যাট্রিকে আমার মতামতের মুল্য ছিল না। বাবা-মা জোর করে সায়েন্সে দিয়ে দিল। আমি হাল্কা পাতলা বলেছিলাম আর্টস এ পড়ার কথা। কিন্তু মধ্যবিত্ত মা-বাবা সেটা শুনতে রাজি না। নটরডেমে চেষ্টা করলাম আর্টস এ ভর্তি হতে। সেখানেও দিল বাধা। বাবা-মা বলল, আমরা যতটুকু হয়েছি তোমাকে তার চেয়ে বড় হতে হবে।

আমি এইচ.এস.সি শেষ করলাম।এবার মা-বাবার ইচ্ছা ছেলে হবে ডাক্তার। আমি তখন চাইছি বাংলা বা ইতিহাস নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ব। আবার বন্ধুদের দেখা-দেখি বুয়েটের প্রতিও একটা মোহ কাজ করছিল।

আমাকে দুইটা মেডিকেলের কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে হল। ধুমাইয়া পড়লাম। মেডিকেলে কোচিং এর ফাকে বাব-মা কে না জানিয়ে ভর্তি হলাম বুয়েটের একটা কোচিং সেন্টারে। কিন্তু পাপ গোপন রাখতে পারিনি। ধরা খাওয়ার পর বাবা-মার মুখ কালো। একসপ্তাহের বেশী চালাতে পারলাম না বুয়েটের কোচিং। বাব-মা বুঝালো ডাক্তার হও। জীবন অনেক সহজ আর উন্নত হবে।

যথাসময়ে ভর্তি পরীক্ষাগুলো শেষ হয়। চান্স পাইছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক আর ঘ বিভাগে। চান্স পাইছি বুয়েটে। কিন্তু মেডিকেলে প্রথম লিস্টে নাই। ওয়েটিং লিস্টে আছি। আমি বাসায় মিন মিন করে বললাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় পড়ি...কোনো লাভ হল না। আমাকে ভালো করে বাচতে হবে। সবকয়টা অপশন চেক করে বুয়েটকে দেয়া হল গ্রীন সিগন্যাল। খুব বিরক্তি নিয়ে ভর্তি হলাম। সেই বিরক্তি এখনও যায়নি।

আমাকে একটু ভালো করে বাচতে হবে। আমি সিভিলে অনার্স শেষ করেছি। একটা চাকুরীও পেয়ে গেলাম মামু না ধরেই। সেটা ছেড়েও দিলাম আরেকটা ভালো চাকুরী পেয়ে। এখন আবার ছোটবেলার মত শব্দার্থ শিখছি।

GRE দিব। আরেকটু ভালো করে বাচার জন্য আমাকে বাইরে যেতে হবে।

আমি আরো ভালর জন্য সারা জীবন দৌড়েই গেলাম। এখনও দৌড়াচ্ছি প্রানপন। দৌড়াতে দৌড়াতে একদিন থমব। পিছনের দিকে তাকিয়ে দেখব যে পথে আমি দৌড়ে এসেছি সেটা বড় অচেনা। সামনে যে মুলাটা ছিল ঝুলে সারা জীবন তার দিকে তাকিয়েই পার করে দিলাম।

যদি বুঝতেই পারি মুলার পিছনে দৌড়াচ্ছি তবে কেন এই দৌড়??? উত্তরটাও জানি...একটূ ভালো করে বাচব বলে...

high IQ theory

এই থিওরী আমি যখন বুয়েটে পড়তাম তখন প্রকাশ করেছিলাম। আর কোনো কিছু বলার আগেই সুত্রের বিবৃতি দিয়ে নেই-

" যাদের IQ একশ দশ (110) বা তার ওপরে তারা কোনোদিন প্রেম করতে পারবে না "

সব সুত্রেরই ব্যাখ্যা থাকে। আমার সুত্রের ব্যাখ্যা আছে।

ব্যাখ্যা-
প্রথম IQ test সম্পর্কে বলে নেই। নেটে যেসব সাইট IQ টেস্টএর সুযোগ দেয় এরা বেশীর ভাগ ফালতু। কমপক্ষে চল্লিশ মিনিট লাগে শেষ করতে এইরকম কোন টেস্টযদি আপনি দিয়ে না থাকেন তাহলে আপনি আমার সুত্রের বাইরে আছেন। উদাহরন স্বরুপ ফেইস বুকে যদি আপনি IQ টেস্ট দিয়ে থাকেন তবে সেটা আসলে গ্রহনযোগ্য না। মাত্র আট- দশটা প্রশ্ন করে এরা যেসব ফলাফল দেয় তা বেশীরভাগ সময় ভুল এবং সর্বোপরি নিজের সম্পর্কে একটা ভুল ধারনা তৈরী করে দেয়।
এবার ব্যাখ্যা শুরু করি। অবশ্য IQ 110 আসলে খুব একটা বেশী কিছু না। তারপরেও বলা যায় যাদের IQ বেশী তারা সাধারন ছেলে-মেয়ের চেয়ে বুদ্ধিমান। এরা প্রেম করতে পারেনা যেসব কারনে সেগুলো নিম্নরূপ-


কারন ১
বুদ্ধিমান মানুষ মাত্রই নিষ্ঠুর। বুদ্ধিমত্তার আরেকটা চিহ্ন হলো নিজেরটা ষোল আনা বুঝে নেয়া। এরা নিজেকে নিয়ে বেশী ভাবে। অন্য কারো জন্য নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে কিছু যে করে না তা না, তবে পরিমানে কম। যারা স্বার্থপর তারা প্রেমে পড়বে কম এটাই স্বাভাবিক।

কারন-২
বুদ্ধিমান একটা ছেলে প্রেমে পড়ার আগেই হিসাব করে ফেলবে সে কি মেয়েটাকে পাবে কিনা। সে হিসাব করে ফেলবে তার সফলতার সম্ভাবনা কতটুকু। এর ওপর আবার নিজের সীমাবদ্ধতার কথা তার মাথায় খুব ভালোভাবে কাজ করবে। এত ভেবে ভেবে বেচারা আর প্রেমে পড়তেই পারবে না।

কারন ৩
বুদ্ধিমান মানুষ লাভ ক্ষতির হিসাব করে। যদি কেউ প্রেমে লাভ ক্ষতির কথা ভাবে তবে সে যে প্রেম কিছুতেই টিকিয়ে রাখতে পারবে না। প্রেমে সময় থেকে শুরু করে টাকা ক্ষতির শেষ নাই অথচ লাভের ঘরে জমা পড়ে সামান্য।

কারন -৪
ছেলেটা যদি কোন কারনে বিরক্ত হয় একটা বুদ্ধিমান মেয়ে সেটা চট করে ধরে ফেলবে। আর যদি সে জানেই তার আচরনে একটা ছেলে বিরক্ত হচ্ছে তবে সেই ছেলের জন্য সে আর এগুবে না। ফলাফল অঙ্কুরেই প্রেম বিনষ্ট।

কারন ৫
এইখানে অনেকে আপত্তি করতে পারেন। আমি যতটুকু দেখেছি যেসব ছেলে প্রেম করে তাদের personal boundary বলে একটা ব্যাপার যে আছে সেই ধারনাটা কম থাকে। বলা বাহুল্য যাদের বুদ্ধি কম তাদেরই personal boundary সম্পর্কে খুব পাতলা ধারনা থাকে। এটা বুদ্ধিমানদের আবার থাকে বেশী। ফলে এরা থাকতে পছন্দ করে একা একা।

আরো কারন আছে। সেইগুলা লিখতে ইচ্ছা করছে না। বরং কেস স্টাডি এর কথা বলি দুই একটা।

কেস স্টাডি ১ "আর্তেমিস"

আর্তেমিস বুয়েটে পড়ে। ইন্টারে পড়ার সময় একটা মেয়েকে তার খুবই ভালো লাগত। কোচিং এ এই মেয়ের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে সে সময় পার করত। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুই অই মেয়ের সাথে কথা বলেছিস? হু বলছি।ওর বাসাও গেছে কয়েকবার। এরপর? ধুর! অই মেয়ের বাসা আমার বাসা থেকে হেটে যেতে দশ মিনিট সময় লাগে। অত হাটাহাটি আমার পোষালো না। যাই হোক লেভেল ৩ এর দিকে আর্তেমিসের মনে হল প্রেমে না করলে ছাত্রজীবন বৃথা। সে মরিয়া হয়ে কোন একটা মেয়েকে খুজছে। যার সাথে কথা বলে আরাম। মেয়েটা যেন বুদ্ধিমান হয়। ভালো ছাত্রী হতে হবে এমন কোন কথা নয় তবে রুচি ভালো হতে হবে।
সে খুজে বের করল এমন একটা মেয়ে। তার সাথে রাত জেগে ফোনে কথাও বলল। ডেটেও গেলো দুই একবার। কিন্তু সে প্রেম করতে পারে নি। জিজ্ঞেস করলে বলে "কেন জানি হচ্ছে না। " অবশেষে তার IQ test করা হলো। দেখা গেলো তা 118.

কেস স্টাডি-২ নেমেসিস

নেমেসিসের IQ 129. সে মেয়েদের সহ্য করতে পারে না। আমার high IQ theory এর জ্বলন্ত প্রমান। এই জ্বলন্ত প্রমান হঠাৎ করেই প্রেমে পড়ে গেল। আমরা অবাক।আমি নেমেসিসকে আমার সুত্রের ব্যতিক্রম হিসাবে প্রায় স্বীকার করে নিলাম। কিন্তু বেচারা ব্যতিক্রম হতে পারলো না। প্রেমের কিছুদিনের মাথায় এমন সব বোকার মত কাজ করতে লাগল যে আমাদের সবার সন্দেহ হতে লাগল তার IQ কমে সত্তুরের কাছাকাছি নেমে এসেছে। সে প্রেমে পড়ার পর ছয় ডিজিটের একটা সংখ্যা পর্যন্ত আর একবার শুনেই মনে রাখতে পারছে না। একটা ফোন নম্বর লিখতে তার অনেক সময় লাগে। কিছুদিন পর সে একটা ভাইভাতে 6*6 কে বলে আসল চুয়ান্ন। আমরা জিজ্ঞেস করায় নেমেসিস উত্তর দেয় আমার আর কোন কিছুতেই মনযোগ নাই। কিছুই মনে রাখতে পারি না।

( কেস স্টাডির সমস্ত নাম সংগত কারনেই গোপন রাখা হয়েছে। এরা সবাই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।)