আসুন সরকারের কত টাকা অপচয় হচ্ছে তার একটা সরলীকৃত হিসাব করি। প্রথমই একটা বিশ্ববিদ্যালয় বেছে লই। ধরা যাক প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা। বুয়েটেরএক বছরের বাজেট ত্রিশ কোটি টাকার মত। ( আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন এটা বাজেট ছিল। এখন মনে হয় আরো বেড়েছে)। বছরে দিন ৩৬৫। তাহলে প্রতিদিন বুয়েট চালাতে সরকারের খরচ ত্রিশ কোটি/ ৩৬৫ = আট লাখ টাকা প্রায়, আসলে হিসাবটা হল ৮২১৯১৭.৮ টাকা।
চলেন আরেকটু হিসাব করি। বুয়েটের ছাত্র কতজন? গড়ে আটশ জন ধরে নিলাম। আরো ধরি পাচটা ব্যাচ আছে। এক টার্মে (সেমিস্টার) বুয়েটের খরচ ত্রিশ/২= পনের কোটি। এই টাকাটা খরচ হচ্ছে ৮০০x৫= ৪০০০ জন ছেলের পিছে। তাহলে প্রতি ছেলের পিছে এক সেমিস্টারে সরকারের খরচ কত? সহজ হিসাব। ১৫ কোটি/৪০০০ = সাইত্রিশ হাজার পাচশ টাকা। আমরা ধরে নিতে পারি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি হলে প্রতিটা ছাত্রকে সেমিস্টার প্রতি সাইত্রিশ হাজার পাচশ টাকা দিতে হত। সরকার প্রতিটা ছাত্রের হয়ে এই ব্যয় বহন করছে।
সরকার টাকা পায় কোথা থেকে? সারা দেশের মানুষের কাছ থেকে কর নিয়ে। এমনকি যে লোকটার আয় দিনে একশ টাকার কম সেও সরকারকে কর দেয় মূল্য সংযোজন করের মাধ্যমে। সুতুরাং সারাদেশের মানুষের টাকায় বুয়েটের একেকটা ছেলে পড়াশুনা করছে। দেশের মানুষের দাবি সামান্য। পড়ো আর পড়া শেষে আমাদের জন্য কিছু কর।
সারমর্মে চলে আসি। বুয়েট একদিন চালাতে সরকারের খরচ আটলাখ টাকা মাত্র এবং প্রতিটা ছাত্রের সেমিস্টার ফি আটত্রিশ হাজার পাচশ টাকা মাত্র।
এখন আমার প্রশ্ন। যদি বুয়েটের শিক্ষাবর্ষ একদিন পিছায় সরকারের কত টাকা লস হয়? পুরো আটলাখ মাত্র। কেননা সরকারের অনেকগুলো ইঞ্জিনীয়ার তৈরী একদিন পিছিয়ে গেল, কিন্তু খরচ ত ঠিকই করতে হচ্ছে। বুয়েটে অহরহ দুই সপ্তাহ পিছিয়ে যায় পরীক্ষা। এবার হিসাব করে বলুন সরকারের কত টাকা বুয়েটের ছাত্র শিক্ষকরা অপচয় করছেন।
ফাকা মাঠের ভিতর কালভার্ট বানানো হয়েছে। প্রথম আলো সেই ছবি ছাপিয়ে দিয়ে কাপিয়ে দিয়েছে দেশ। সারাদেশ জুড়ে কত কথাবার্তা। একটা কালভার্টের কত খরচ? সেটা কি আটলাখ টাকা থেকেও বেশি? বুয়েট একদিন পিছালে কেউ ত কোন আওয়াজ করে না। জনগনের পয়সার অপচয় করা পাবলিক ভার্সিটি গুলোর এইকাজ কি দুর্নীতির আওতায়? নাকি বাইরে?
বুয়েটের প্রতি আমার আলাদা রাগ নয়। এই হিসাবটা করলাম কেননা আমি সেখানকার ছাত্র ছিলাম। একটা ধারনা আছে বুয়েট সম্পর্কে। আর এই অপচয় ত শুধু বুয়েটে না। বাকি ভার্সিটিগুলোর হিসাব এর কাছাকাছি হবে। হয়ত উনিশ বিশ পার্থক্য।
( আমি ছাত্র অবস্থায় এই কথা গুলো বলেছিলাম। কিছু ছেলে, যারা পরীক্ষা পিছাতে চায় আমাকে মারধোরের হুমকি দিয়েছিল। ব্লগে মারতে পারবে না, কিন্তু হয়ত একটা গ্রুপ তৈরী হবে আমাকে অযথা হেনেস্থা করার জন্য। তবু আমি লিখলাম। আরেকটা কথা। এটা পুরানো ব্লগ। সামুতে অবশ্য প্রথমবারের মত দিচ্ছি।)
আমি আখসানুল ইসলাম। ব্লগ লিখি মজা করার জন্য। আমার ব্লগ পড়ে আপনি আনন্দ পেলেই আমি সন্তুষ্ট।
Showing posts with label conspiracy. Show all posts
Showing posts with label conspiracy. Show all posts
কিভাবে ঠেকাবেন নিজের বিবাহ (শুধু ছেলেদের জন্য)
এইটা আমার নিজস্ব পদ্ধতি। মা শ্রেনীর মানুষদের ওপর খুব ভালো কাজ করে।
বুয়েটে থাকার সময়ই আমার মা মনে মনে আমার জন্য পাত্রী খোজা শুরু করছেন। আমি তখন মাত্র মায়ের আচল থেকে মুক্তি পাইছি। (ক বাদে) বালকস্বভাব মাত্র দেখা দিচ্ছে। মেয়েদের দিকে আগ্রহ নয়ে তাকাই, কিভাবে প্রেম করা যেতে পারে তার ফন্দি-ফিকির বুঝার চেষ্টায় আছি।
ভাবলাম, এই সময় বিবাহ করা উচিত না। মনে মনে প্ল্যান, পাস করার বছর তিনেক পর চিন্তা শুরু করব। ততদিনে নিজের পা জোড়া একটু শক্ত হবে।
আমি জানি না করলে মা আরো জোসের সাথে পাত্রী খোজা শুরু করবে, কেননা যেখানে না বাঙ্গালি সেখানেই হ্যা বলতে বেশি পছন্দ করে। তাই এক বিকালে আমি মাকে বললাম , তুমি অবশ্যই পাত্রী খুজবে। আমার শুধু তিনটা শর্ত আছে।
-কি শর্ত
নাম্বার ১
মেয়ের বাবা আমার বাবার কলিগ হতে পারবে না। কলিগ হলে সমস্যা হল যদি আমার বাবার চেয়ে মেয়ের বাবা উচু পোষ্টে থাকে সেটা আমার ভালো লাগবে না, আমার বাবা উপরে থাকলে মেয়ের ভালো লাগবে না। আর একই র্যাঙ্কে এখন থাকলেও, পরে না থাকতে পারে। কে আগে প্রমোশন পাবে সেটা নিয়ে ঝামেলা হবে।
নাম্বার ২
আমার ক্লাসমেটের ছোটবোন বা আমার ছোটবেলার কোন বন্ধুর ছোটবোন হতে পারবে না। কেননা তাহলে আমার বন্ধু আমার সাথে অন্য আরেকটা সামাজিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়বে এবং আমার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের যে সম্মান থাকা দরকার সেটা আমি তাকে কোনদিন দিতে পারব না।
নাম্বার ৩
মেয়েকে অবশ্যই কোন একটা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া হতে হবে।
আমার মা সানন্দের রাজি হয়ে গিয়েছে।
পাঠক যদি মনে করে থাকেন আমার যুক্তিগুলা বেশ বাস্তব সম্মত তাহলে আপনিও কিন্তু আমার মার মত খুব সহজে ধোকায় পড়ে গেছেন। এই তিনটা যুক্তি আমি ভেবে চিন্তে মাকে বলেছি।
আমার হবু বউয়ের সাথে মার দেখা হবার কি কি উপায়? আমার মা কোথায় কোথায় তার ছেলের বঊকে খুজবেন??? বউ খোজার সবচে বড় ক্ষেত্র আমার মায়ের নিজের বান্ধবীরা। আমার ছোটবেলার বন্ধুদের মায়েরা আমার মায়ের বান্ধবী। যেহেতু আমি বন্ধুর ছোটবোনদের তালিকার বাইরে রাখতে বলছি সেহেতু আমার মা সেখান থেকে মেয়ে খুজে পাচ্ছেন না।
দ্বিতীয় বড় ক্ষেত্র আমার বাবার কলিগরা। তাদের সাথেই আমাদের সমস্ত সামাজিকতা। ফলে আমার মা যদি কোন এক অনুষ্ঠানে কোন একটা মেয়েকে পছন্দ করে তবে নিশ্চিতভাবেই দেখা যাবে সে আমার বাবার কলিগের মেয়ে।
তিন নাম্বার যুক্তিটাও কঠিন। যেহেতু আমার মা ঢাকায় থাকেন না, একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়ের সাথে আমার মাইয়ের দেখা হবার সম্ভাবনা খুবই কম। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছুটি হয় ঈদ, গরমে... সে সময় আমরা দুইভাইও ঘরে ফিরে আসি। মা আমাদের নিয়েই ব্যাস্ত থাকেন।
আমার মাকে তিনটা আপাত চোখে খুব সহজ শর্ত দিয়ে আসলে অসম্ভব একটা কাজে জড়িয়ে দিয়েছি। তাঁর পক্ষে একটা মেয়ে খুজে পাওয়া কঠিনের চেয়েও বেশি।
এই যুক্তিগুলা দিয়েছি বছর তিনেক আগে। আমি পাস করেছি। চাকুরি করা শুরু করেছি। আমার মা বউ বউ করছে কিন্তু এতদিনেও কাউকে খুজে পাচ্ছে না। আমিও শর্ত শিথিলের ব্যাপারে কিছু বলি না। পাশ করেছি একবছর হল। আরো বছর দুয়েক পর খুলে বলব মাকে।
বিঃদ্রঃ এই পদ্ধতি মেয়েদের জন্য কাজ করবে কিনা বলতে পারছি না। কেউ অন্য কিছু ব্যবহার করে সফল হয়ে থাকলে দয়া করে আওয়াজ দিবেন। আমার আরো কিছু উপায় বাড়ুক। এখনো বছর দুয়েক বাকি, আরেকটা অস্ত্র হাতে থাকলে খারাপ কি?
বুয়েটে থাকার সময়ই আমার মা মনে মনে আমার জন্য পাত্রী খোজা শুরু করছেন। আমি তখন মাত্র মায়ের আচল থেকে মুক্তি পাইছি। (ক বাদে) বালকস্বভাব মাত্র দেখা দিচ্ছে। মেয়েদের দিকে আগ্রহ নয়ে তাকাই, কিভাবে প্রেম করা যেতে পারে তার ফন্দি-ফিকির বুঝার চেষ্টায় আছি।
ভাবলাম, এই সময় বিবাহ করা উচিত না। মনে মনে প্ল্যান, পাস করার বছর তিনেক পর চিন্তা শুরু করব। ততদিনে নিজের পা জোড়া একটু শক্ত হবে।
আমি জানি না করলে মা আরো জোসের সাথে পাত্রী খোজা শুরু করবে, কেননা যেখানে না বাঙ্গালি সেখানেই হ্যা বলতে বেশি পছন্দ করে। তাই এক বিকালে আমি মাকে বললাম , তুমি অবশ্যই পাত্রী খুজবে। আমার শুধু তিনটা শর্ত আছে।
-কি শর্ত
নাম্বার ১
মেয়ের বাবা আমার বাবার কলিগ হতে পারবে না। কলিগ হলে সমস্যা হল যদি আমার বাবার চেয়ে মেয়ের বাবা উচু পোষ্টে থাকে সেটা আমার ভালো লাগবে না, আমার বাবা উপরে থাকলে মেয়ের ভালো লাগবে না। আর একই র্যাঙ্কে এখন থাকলেও, পরে না থাকতে পারে। কে আগে প্রমোশন পাবে সেটা নিয়ে ঝামেলা হবে।
নাম্বার ২
আমার ক্লাসমেটের ছোটবোন বা আমার ছোটবেলার কোন বন্ধুর ছোটবোন হতে পারবে না। কেননা তাহলে আমার বন্ধু আমার সাথে অন্য আরেকটা সামাজিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়বে এবং আমার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের যে সম্মান থাকা দরকার সেটা আমি তাকে কোনদিন দিতে পারব না।
নাম্বার ৩
মেয়েকে অবশ্যই কোন একটা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া হতে হবে।
আমার মা সানন্দের রাজি হয়ে গিয়েছে।
পাঠক যদি মনে করে থাকেন আমার যুক্তিগুলা বেশ বাস্তব সম্মত তাহলে আপনিও কিন্তু আমার মার মত খুব সহজে ধোকায় পড়ে গেছেন। এই তিনটা যুক্তি আমি ভেবে চিন্তে মাকে বলেছি।
আমার হবু বউয়ের সাথে মার দেখা হবার কি কি উপায়? আমার মা কোথায় কোথায় তার ছেলের বঊকে খুজবেন??? বউ খোজার সবচে বড় ক্ষেত্র আমার মায়ের নিজের বান্ধবীরা। আমার ছোটবেলার বন্ধুদের মায়েরা আমার মায়ের বান্ধবী। যেহেতু আমি বন্ধুর ছোটবোনদের তালিকার বাইরে রাখতে বলছি সেহেতু আমার মা সেখান থেকে মেয়ে খুজে পাচ্ছেন না।
দ্বিতীয় বড় ক্ষেত্র আমার বাবার কলিগরা। তাদের সাথেই আমাদের সমস্ত সামাজিকতা। ফলে আমার মা যদি কোন এক অনুষ্ঠানে কোন একটা মেয়েকে পছন্দ করে তবে নিশ্চিতভাবেই দেখা যাবে সে আমার বাবার কলিগের মেয়ে।
তিন নাম্বার যুক্তিটাও কঠিন। যেহেতু আমার মা ঢাকায় থাকেন না, একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়ের সাথে আমার মাইয়ের দেখা হবার সম্ভাবনা খুবই কম। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছুটি হয় ঈদ, গরমে... সে সময় আমরা দুইভাইও ঘরে ফিরে আসি। মা আমাদের নিয়েই ব্যাস্ত থাকেন।
আমার মাকে তিনটা আপাত চোখে খুব সহজ শর্ত দিয়ে আসলে অসম্ভব একটা কাজে জড়িয়ে দিয়েছি। তাঁর পক্ষে একটা মেয়ে খুজে পাওয়া কঠিনের চেয়েও বেশি।
এই যুক্তিগুলা দিয়েছি বছর তিনেক আগে। আমি পাস করেছি। চাকুরি করা শুরু করেছি। আমার মা বউ বউ করছে কিন্তু এতদিনেও কাউকে খুজে পাচ্ছে না। আমিও শর্ত শিথিলের ব্যাপারে কিছু বলি না। পাশ করেছি একবছর হল। আরো বছর দুয়েক পর খুলে বলব মাকে।
বিঃদ্রঃ এই পদ্ধতি মেয়েদের জন্য কাজ করবে কিনা বলতে পারছি না। কেউ অন্য কিছু ব্যবহার করে সফল হয়ে থাকলে দয়া করে আওয়াজ দিবেন। আমার আরো কিছু উপায় বাড়ুক। এখনো বছর দুয়েক বাকি, আরেকটা অস্ত্র হাতে থাকলে খারাপ কি?
Subscribe to:
Posts (Atom)