অতি সহজ ভাষায় বিবর্তনের ব্যাখ্যা (ডারউইনকে গালি দেবার আগে জানুন তার থিওরী)

Fact- 01
প্রতিটি প্রানি বংশ বৃদ্ধি করে গুনিতক হারে। ম্যালথাস যাকে বলেছেন জ্যামিতিক হারে। জীব বিজ্ঞানে এটিকে জনন-অপব্যয়িতা বলা হয়।

ব্যাখ্যা-
আপনার একুরিয়ামে যে গোল্ড ফিস আছে সেটা একবারে এক হাজারের বেশি ডিম পাড়ে। বলা বাহুল্য সবচেয়ে অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশেও একটা গোল্ড ফিসের এক হাজার বাচ্চা বেচে থাকতে পারবে না।
একটা মাছি একবারে ডিম পাড়ে ১২০-১৫০ টি ডিম।
একটা ঝিনুক পাড়ে একশ মিলিয়ন ডিম।
ফিশন পদ্ধতিতে একটি ব্যাক্টেরিয়া ভেঙ্গে দুইটা পরিনত হয় মাত্র বিশ মিনিটে। ছয় ঘন্টায় একটা ব্যাক্টেরিয়া থেকে ২,৬২,১৪৩ টা হয়ে যাবে। চব্বিশ ঘন্টার ভিতর এই সংখ্যা হবে 4.72 E+21 ।

fact ০১ এর সাথে একমত না হবার কোন যৌক্তিক কারন নাই। যদি একমত হন এরপর দ্বিতীয় fact এ চলে আসি।

fact-০২
বার্ষিক সামান্য হ্রাস বৃদ্ধি এবং মাঝে মাঝে বড় রকমের হেরফের ছাড়া একটি নির্দিষ্ট স্থানে জীবের মোট সংখ্যা কম বেশি একই থাকে কারন একটি সুস্থিত পরিবেশে সম্পদ( খাদ্য, প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, পরিবেশ ইত্যাদি) সীমিত থাকে।

ব্যাখ্যা-
একটি সীমানা দ্বারা রক্ষিত বনের ভিতর গাছের সংখ্যা সারা বছর একই থাকবে। একটি কৃত্রিম বনে আপনি চাইলেই ইচ্ছে মত ঘন করে গাছ লাগাতে পারবেন না। যদি চেষ্টা করেও থাকেন, সীমিত সংখ্যক গাছই টিকে থাকবে। বাকিরা বড়ই হতে পারবে না।

একইভাবে প্রানীর ক্ষেত্রেও বলা যায়, সুন্দরবনে বাঘের ঘনত্ব বাড়তে পারে না। ধরা যাক, একটা এলাকায় দুইটা বাঘ থাকে, আপনি আরো দুইটা এনে ছেড়ে দিলেন।বাঘ বেড়ে যাওয়ায়, হরিনের উপর চাপ পড়বে। বেশি সংখ্যক হরিন মারা গেলে, হরিনের সংখ্যা যাবে কমে। ফলাফল। বাঘের যখন বাচ্চা হবে কিছু সংখ্যক বাঘের বাচ্চার অনাহারে মারা পড়তে হবে। দুই বা তিন জেনারেশন বাঘের ভিতরই সংখ্যাটা আগের জায়গায় ফিরে আসবে।

এই দুইটা তথ্যে যদি আপনার আপত্তি না থাকে, তবে আমি প্রথম অনুসিদ্ধান্তে চলে আসি।

অনুসিদ্ধান্ত-১
একটি নির্দিষ্ট এলাকায় যতগুলো প্রানী বেচে থাকতে পারে তার থেকে অনেক বেশি জীব জন্মায় এবং যেহেতু বসাতুতন্ত্রের অমোঘ নিয়মে জীবের সংখ্যার বড়সড় হেরফের হয় না, সেহেতু বেচে থাকার জন্য বা টিকে থাকার জন্য প্রতিটি জীবের মধ্যে তীব্র সংগ্রাম চলে। ফলে প্রতিটি প্রজন্মের(জেনারেশনের)ভিতর মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ টিকে থাকে।

ব্যাখ্যা-
একটা গোল্ড ফিসের কয়টা বাচ্চা বেচে থাকে বলে আপনার ধারনা?
টিকে থাকার এই সংগ্রামকেই ডারউইন বলেছেন জীবন সংগ্রাম। প্রতিটা জীব তার নিজের প্রজাতির সাথে বা অন্য প্রজাতির সাথে টিকে থাকার জন্য নিত্যই সংগ্রাম করে চলেছে।

fact ০৩
যৌন জননে জন্ম নেয়া যেকোন দুইটি জীব কখনোই এক নয়। জ়িব জগতে তাই একই জীবের ভিতর হাজার হাজার ভ্যারাইটি দেখা যায়।
ব্যাখ্যা-
বেচারা ডারউইন বা ওয়ালেস জিন কি জিনিস সেটা জানত না। তাই কষ্ট করে ব্যাখ্যা করেছে। এখন আমরা সবাই জানি মিয়োসিস বিভাজনের সময়েই জিনে মিউটেশন ঘটে যায়। সুতরাং কখনোই একই জীবের দুইটা সন্তান বা বংশধর পরিপূর্নভাবে এক হবে না। ব্যাক্টেরিয়া থেকে মানুষ –সব জীবের ক্ষেত্রেই এটা সত্য।
fact-০৪
fact তিনে উল্লেখিত ভ্যারাইটি গুলো অনেকটাই বংশানুসৃত হয়।
ব্যাখ্যা-
এটার ব্যাখ্যা করার আসলে প্রয়োজন নাই। বাপ-মা থেকে যে জিন পাওয়া যায় , বংশধর সেই রকমই হবে।
অনুসিদ্ধান্ত-০২
যেহেতু একই জীবের প্রজাতির অনেকগুলা ভ্যারাইটি তৈরী হয়(fact-০৩-০৪) এবং যেহেতু জীবের সমস্ত বংশধর টিকে থাকতে পারে না( অনুসিদ্ধান্ত-০১ অনুযায়ী) সেহেতু বলা যায় যে, ভিন্ন ভিন্ন ভ্যারাইটিগুলোর ভিতর যেটি যোগ্য শুধুমাত্র সেটিই টিকে থাকবে।

ব্যাখ্যা-
এটিই বিখ্যাত প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব- “ survival of the fittest”

ধরা যাক, আপনি চিকন আর লম্বা লাউয়ের একটা জাত তৈরী করতে চান। আপনি বাজার থেকে কয়েকজাতের লাউয়ের চারা কিনে নিয়ে আসলেন। আপনার বিশাল বাগানে লাগালেন শখানেক গাছ। ফল হবার পর দেখলেন আপনি যেটা চাচ্ছেন- লম্বা আর চিকন লাউ- সেইটা ধরেছে মাত্র দুইটা বা তিনটা গাছে। আপনি সেই গাছ দুই- তিনটা থেকে- যেই লাউটাকে মনে হল পারফেক্ট- শুধু সেই লাউটার বিচি জমিয়ে রাখলেন। পরের বছর একশ চারাই লাগালেন সেই লাউয়ের জমানো বিচি থেকে। এবারের লাউ ধরল। সব কয়টাই চিকন আর লম্বা। আপনি সেগুলো থেকে যেটা পারফেক্ট বা আপনার ইচ্ছার সাথে সবচে বেশি মিলল শুধু সেই লাউটা রাখলেন।
এভাবেই প্রতি বছর লাউয়ের ভিতর সবচে চিকন আর লম্বা লাউটারই শুধু চাষ করতে লাগলেন। বছর দশেকের ভিতর দেখা যাবে আপনার বাগানের লাউ সম্পূর্ন নতুন জাত। এত চিকন আর লম্বা আর কারোই লাউ নয়।

এই পদ্ধতিকে বলা হয় কৃত্রিম নির্বাচন। আপনি প্রতিটা জেনারেশনে সবচে চিকন আর লম্বা লাউ বেছে নিয়েছেন। আস্তে আস্তে আপনি মোটা বেটে লাউ থেকে কাংখিত চিকন আর লম্বা লাউয়ে চলে গিয়েছেন।

ধরা যাক ঢাকার মশার কথা। এক সময় এখানে যে মশা ছিল তা কয়েলের কারনেই মারা যেত। সহজ হিসাব করি। ধরা যাক, ঢাকায় মাত্র একশ মশা বেচে থাকার মত মানুষ আছে। জেনারেশন০১ এর মশারা অবশ্যই একশর বেশি ডিম পাড়ছে। কিন্তু মূককীট থাকতেই বা আরেকটু বড় হয়ে অনেক মশা মরে গেছে। শেষ পর্যন্ত একশ মশাই জেনারেশন ০২ এ আসতে পেরেছে। জেনারেশন ০১ যে মশা ছিল সেগুলো কয়েলের সামান্য ধুয়াতেই মারা যেত। কিন্তু জেনারশন ০২ এ শুরুতে হয়ত ১২৫ টা মশা ছিল। এর ভিতর ৫ টা প্রাকৃতিক মিউটেশনের কারনেই হয়ত একটু বেশি সহ্য ক্ষমতা নিয়ে জন্ম নিয়েছে। ১২৫ টা থেকে যখন ১০০ টা টিকে থাকছে তখন দেখা গেল অই পাচটাই টিকে গেছে। বাকি ১২০ টার ৯৫ টা বেচে গেছে। এই পাচটা ডিম পাড়ল। ৯৫ টাও পাড়ল। এইবার ০৫ টা থেকে জেনারেশন ০৩ এ ১৫ টা টিকে গেল আর সাধারন আসল ৮৫ টা। এইভাবে আস্তে আস্তে হয়ত আশি-নব্বই জেনারেশন পর দেখা যাবে, মশাগুলার সবকয়টার সহ্য ক্ষমতা বেড়ে গিয়েছে। এরা অন্য জেলার মশা থেকে আলাদা হয়ে গেছে। লম্বা সময় ধরে পরোক্ষভাবে সহ্যক্ষমতা বেশি এই রকম মশা নির্বাচন করে করে আমরা মশার নতুন একটা ভ্যারাইটি তৈরী করে ফেলতে পারছি। সময় পেলে নতুন একটা প্রজাতি বের হয়ে আসতেও পারে।

পঞ্চাশ বছরে যদি মশার এই হাল হয়, হাজার বছরে কি হতে পারে তার ধারনা করুন। যেভাবে সাধারন মশা থেকে উন্নত(!) মশায় রূপান্তর ঘটল, হাজার বছর ধরে প্রকৃতি একটু একটু করে সরল জীব থেকে জটিল জীবের উদ্ভব ঘটিয়েছে।
মোটামুটিভাবে এইটাই ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব। ( আমি যতটুকু বুঝছি আর কি। আমি ইঞ্জিনীয়ার মানুষ। জীব বিজ্ঞানে দুর্বল। এখানে কোন অসঙ্গতি থাকলে তার জন্য আমি দায়ী- ডারউইন না। )

সূত্র-
Origin of species http://www.gutenberg.org/etext/2009
প্রজাতির উৎপত্তি- ম. আখতারুজ্জামান ( অতি কুৎসিত অনুবাদ)

এ. আর. ওয়ালেস এর তিনটা অনুসিদ্ধান্তের আদলে লেখা। তিন নম্বরটা জরূরী মনে না হওয়ায় এবং জোস কমে যাওয়ায় লিখলাম না।( আমি বড় অলস মানুষ। )

ফানপোষ্ট- কিছু ব্লগারের স্টাইল অনুসরন করে...

ঘটনা সহজ। প্রথম প্রেম বা প্রথম ডেটের কথা লিখছেন বিখ্যাত ব্লগাররা।তাদের নিজস্ব স্টাইলে। শিরোনাম আর নমুনা ব্লগ দিলাম।
মডু/নুটিশবোর্ড

নির্মল বিনোদনের উৎস এই ব্লগগুলা। প্রথম ডেট বর্ননায় ব্লগের নানা টার্ম ব্যবহৃত হবে...
শিরোনাম- আমার প্রেম- সকল ব্লগারের দৃষ্টি আকর্ষন

নমুনা ব্লগ-
ছেলেটাকে দেখলেই মনে হলো এই ছেলে শখানেক প্লাস পাওয়া ছেলে। এইছেলে নিরাপদ না হয়েই যায় না। আমার হৃদয়ে তার আসন স্টিকি হয়ে গেলো...ইচ্ছে হলো শোকেসে রেখে দেই তাকে... কয়েকটা মেয়েও তার দিকে তাকিয়ে আছে...মেয়েগুলাকে ওয়াচে রাখলাম...


(পোষ্ট স্টকি থাকবে, মাইনাসে ভরে যাবে। কিছু চিহ্নিত ব্যাক্তিকে দেখা যাবে প্লাস দিচ্ছে আর বাহবা দিচ্ছে। )


কাগু
ব্লগের ভাষাসৈনিক(!) কাগু ব্লগ শুরু করবেন একেবারে নিজস্ব স্টাইলে।

শিরোনাম- বাথিযা- বাথিযিড়া আনন্ধ করো, অভসেসে কাগু কাঘীমা কুযে ফেলো
নমুনা ব্লগ-
অপিছে ভছে ছিঙ্গাড়া খাচসি,ঠুঈ ঠাখার চুট্ট ছিঙ্গাড়া। এমুন ছময় মাছাল্লাহ, এখ টড়ুনী এলু, তাহাড় সিঙ্গাড়া পাছঠাখার খম না হয়ে জায় না।
................................




দূরের পাখি
পাচ-ছয়টা ভাষায় দক্ষ দূরের পাখি লিখবে খাটি ফেনী-কুমিল্লা অঞ্চলের ভাষায়।
শিরোনাম- পুলিশীয় পোষ্ট- আমার প্রথম অভিসার আর হুজুরগুলার _এ চুলকানি


নমুনা ব্লগ-
হেতেরে দেখতাছি কয়দিন ধইরা। দেখলেই আঞ্জা দিয়া ধরতে ইচ্ছা করে। এমুন সোন্দর হয় মানুষ...

( পোষ্ট এইভাবে শুরু হলেও হঠাৎ করে এর ভিতর ইসলাম ঢুকে যাবে। শেষে হযরতকে গালি দিয়া ব্লগ শেষ হবে।)


কৌশিক
ব্লগের সেলেব্রেটিদের একজন। ধারালো ভাষায় তিনি প্রথম ডেটের কথা লিখবেন। ব্লগে অনেক উচ্চমার্গীয় কথা বার্তা থাকবে। শেষের জন্য তিনি সবচে বড় চমকটা রেখে দিবেন।

শিরোনাম- পলিগেমাস পুরুষের মনোগ্যামির শখ- একটি ডেট এবং তৎ পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ (সিরিজ ব্লগ)

নমুনা ব্লগ-
আমি টিপাইমুখ বন্ধ করো টি-শার্ট পড়ে লেকের পাড়ে বসে আছি। কলিগের আসার কথা পাচটায়। এখন বাজে পাচটা বেজে ত্রিশ সেকেন্ড। আমি খুবই বিরক্ত।
......

( ব্লগের শেষে পাঠক ধাক্কা খাবেন যখন জানবেন কলিগ আসলে বিবাহিত। পরের পর্বে জানবেন কলিগ আসলে ছেলে। এরপরের পর্বে জানবেন যে কলিগের সাথে ডেট সেইটা আসলে বিবাহিত কলিগ না, অন্য কলিগ। ......)


চিকনমিয়া


হিট ব্লগার চিকনমিয়া ডেট নিয়া প্রথমে লিখতেই রাজি হবেন না। জোর করে নামানোর পর ছোট একটা ব্লগ লিখবেন। সেইটার হিট প্রথমদিনেই হাজার পেরিয়ে যাবে।

শিরোনাম- প্রেমে মাইনাচ নাই...লাভই লাভ

নমুনা ব্লগ-
ডেটের উদ্দেশ্যে আমি লেকের পাড়ে বসে আছি। সামনে একটা রূমাল বিছাইছি। সেইখানে বাদাম খাইয়া ছোলকা রাখমু। কিন্তু রূমাল বিছাইয়া বসতেই একজন আইস্যা দুইটা টাকা রূমালে রাখল। কয়- কিছু কিন্না খাইস...শরীরে ত কিছুই নাই।
যাই হোক ঘন্টাখানেকের ভিতর শ দুয়েক টাকা আয় করলাম।
ডেটের দেখা নাই। যাউকগা, পয়সা কামাইচি... এইটাই ভালু।

রাইতে চুইটি ফুনে কয়, আমি লেকের পাড়ে গেছিলাম ত। কিন্তুক একটা গোলাপি শার্ট পড়া ফকির ছাড়া আর কাউরে দেখলাম না। তুমি আসো নাই ক্যান?
......



সুদীপ্তঅরন্যচারী


এই ছেলেটা দিনলিপি আকারে লিখবে। বান্ধবীর সাথে বসে বসে সিনেমা দেখছে। সেই থেকেই প্রেম শুরু।


শিরোনাম- আমার প্রেমলিপি
নমুনা ব্লগ-
আমি দৌড়িয়ে সিনেপ্লেক্সে আসলাম। হাতে ফুল । দৌড়িয়ে আসতে আসতে ধাক্কা লেগে অনেকফুলের পাপড়ি আর নাই। যাহোক ডান্ডাগুলা দিলেও সে মাইন্ড করবে না। আমি প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ি। এদের প্রেমে ফুলের দরকার লাগে না। ( প্রাইভেটে পড়ি... মাইনাস দিয়া যাইয়েন ভাইয়েরা)
.........

(ব্লগ ভালোই হবে। কিন্তু কমেন্টে ছাগু-জামাত নিয়া বিরাট ক্যাচাল হবে। এইটা যে একটা প্রেমের পোষ্ট কারো মাথায় থাকবো না। সিটিএন ছোড়াছুড়িতে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়বে। শেষ পর্যন্ত বেচারা নিজেই ব্যান খেয়ে বসবে। )